এক কেসেই ধরা পড়ল ১১০ কোটি জালিয়াতির নীলনকশা, বাকি ৭টিতে কত?
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম
সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সাসেক ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক প্রকল্পের নরসিংদী অংশে একটি ভূমি অধিগ্রহণ মামলায় (এলএ কেস) প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি বাদ পড়েছে। এতে অবকাঠামোর সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ ব্যয় কমেছে ১১০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৪ টাকা। একই প্রকল্পে নরসিংদী অংশে এমন এলএ কেস রয়েছে আরও সাতটি। প্রশ্ন উঠেছে—প্রাথমিক প্রস্তাব ও চূড়ান্ত অধিগ্রহণের হিসাব পাশাপাশি রাখলে ওই সাতটি মামলায় কত জমি এবং কত টাকার সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ কমেছে?
যুগান্তরের অনুসন্ধানে পাওয়া নথি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এলএ কেস ০৯/২১-২২-এর ক্ষেত্রে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) প্রথমে ১৪ একর ২৬ দশমিক ৩৮ শতক জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দেয়। জমির প্রয়োজনীয়তা ও যৌথ তদন্তের ফিল্ডবহি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)কে আহ্বায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্তে প্রথম দফায় ৩ একর ১২ দশমিক ৯২ শতক জমি বাদ পড়ে। এতে প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ দাঁড়ায় ১১ একর ১৩ দশমিক ৪৬ শতক। পরে আরও যাচাই ও অ্যালাইনমেন্ট সংশোধনের পর চূড়ান্তভাবে অধিগ্রহণে রাখা হয় ৯ একর ৮৫ দশমিক ১৫ শতক।
অর্থাৎ প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় শেষ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ একর জমি বাদ যায়। নথি অনুযায়ী, জমির পাশাপাশি স্থাপনার সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ হিসাবেও এর বড় প্রভাব পড়ে। শুধু এই একটি এলএ কেসেই সম্ভাব্য অবকাঠামো ক্ষতিপূরণ ব্যয় কমে যায় ১১০ কোটি ৩৯ লাখ ৪৫ হাজার ৬৩৪ টাকা।
এখন সামনে এসেছে একই প্রকল্পের বাকি সাতটি এলএ কেসের হিসাবও যাচাই করার প্রশ্ন।
একটি এলএ কেসে প্রাথমিক প্রস্তাব থেকে চূড়ান্ত অধিগ্রহণের পরিমাণ কমে যাওয়ার সঙ্গে ১১০ কোটি টাকার বেশি সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ ব্যয় কমেছে। ফলে একই পদ্ধতিতে বাকি সাতটি এলএ কেস যাচাই করলে প্রকল্পের নরসিংদী অংশে মোট কত জমি অতিরিক্ত প্রস্তাব করা হয়েছিল এবং কত টাকার সম্ভাব্য ক্ষতিপূরণ শেষ পর্যন্ত এড়ানো গেছে—তা বেরিয়ে আসতে পারে।
তবে বাকি সাতটি এলএ কেসের প্রাথমিক ও চূড়ান্ত হিসাব এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষতিপূরণ ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ নথি বিশ্লেষণ না করে এ বিষয়ে কোনো মোট অঙ্ক বলা যাচ্ছে না।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান কেয়া বলেন, তিনি যোগদানের পর থেকেই যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়সহ একাধিক তদন্ত চলছে। ভূমি মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে দীর্ঘ প্রতিবেদন দিয়েছে বলে শুনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানেন না। চলমান অধিগ্রহণের কাজ শেষ করতেও বিষয়টি জানা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, তদন্ত কমিটি যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরেছে, সেগুলোর ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারি টাকা অপচয়ের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। একই জমি পুনরায় অধিগ্রহণের আওতায় নেওয়ার প্রশ্নই আসে না।
এখন তাই নজর বাকি সাতটি এলএ কেসের দিকে। সেখানে প্রাথমিক প্রস্তাবের সঙ্গে চূড়ান্ত অধিগ্রহণের হিসাব মিলিয়ে দেখলেই বোঝা যাবে—একটি মামলায় পাওয়া ১১০ কোটি টাকার পার্থক্য বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি বৃহত্তর কোনো চিত্রের অংশ।
