চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে পদশূন্য এক মাস, দুর্ভোগে সেবাপ্রত্যাশীরা
Advertisement
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিনের মৃত্যুতে এক মাস ধরে পদটি শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসকও নিয়োগ হয়নি। এছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছে পরিষদে আসা সেবাগ্রহীতারা।
অভিযোগ রয়েছে, পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য আব্দুল হান্নান চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তার হয়ে বিএনপির লোকজন অন্যান্য ইউপি সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়েছে। যার কারণে কেউই এখন প্যানেল চেয়ারম্যান হতে রাজি হচ্ছে না। রাজনৈতিক চাপে সবাই এখন বিএনপিপন্থি ইউপি সদস্যকে সমর্থন দিয়েছেন। এরপরও প্যানেল চেয়ারম্যান গঠন না হওয়ায় দুর্ভোগে রয়েছে ইউনিয়নবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন ইউপি সদস্য জানান, এক মাস ধরে চেয়ারম্যানের পদ শূন্য থাকায় ইউনিয়নবাসী পরিষদে এসে বিভিন্ন সেবা পাচ্ছে না। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া জরুরি। এছাড়া প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচনও আটকে রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জোরালো ভূমিকা প্রয়োজন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন গত ১৪ আগস্ট মারা যান। এতে পদটি শূন্য রয়েছে। তার মৃত্যুর এক মাস হলেও এখনো সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে নাগরিক সনদ, ওয়ারিশ সনদ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের বিধান রয়েছে। কিন্তু সাবেক তিনজন প্যানেল চেয়ারম্যানের কেউই এখন দায়িত্ব নিতে রাজি হচ্ছেন না। সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যানরা হলেন শফিকুল ইসলাম শিপন খলিফা, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার। এর মধ্যে শিপন খলিফা চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছেন। এখন রাজনৈতিক চাপে তারা প্যানেলের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম, সালাহ উদ্দিন ও হাসিনা আক্তার কেউই কোনো অভিযোগ দেননি। প্যানেল চেয়ারম্যান নিয়ে অনীহায় রাজনৈতিক চাপ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নেও তারা কোনো মন্তব্য করেননি।
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য আব্দুল হান্নান বলেন, আমি প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে চাই। প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারীসহ একটি বৈঠকে অন্যান্য ইউপি সদস্যরা আমাকে সমর্থন জানিয়েছেন। আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দেবেন। এছাড়া পরিষদের অন্য সদস্যরা আওয়ামী সমর্থিত ও ফ্যাসিস্টের দোসর। তাদের আর সুযোগ দেওয়া যাবে না।
ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আশরাফুল বারী বলেন, একটি বৈঠকে হান্নানকে অন্যরা সমর্থন দিয়েছেন বলে শুনেছি। তবে এটি সম্পূর্ণ তাদের বিষয়।
চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিলুফা ইয়াসমিন নিপা জানান, প্রশাসক নিয়োগ ও প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন জেলা প্রশাসক দেবেন। জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশা করছি।

-6aa7c2fa9bb33.jpg)