ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আগুন, আহত ২০
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের নষ্ট লিফটে আগুন লেগে আটতলা পর্যন্ত লিফটের সবকিছু পুড়ে গেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকাল পৌনে ৬টার দিকে আগুনের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদরের ৩টি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ইউনিটসহ মোট ৪টি ইউনিট এক ঘণ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার খবরে আটতলা এ নতুন ভবনে থাকা রোগী ও স্বজনরা হুড়োহুড়ি করে রাস্তায় নেমে আসে। এ সময় নিরাপত্তাকর্মীরা শিশু ও নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন।
আগুনের কারণে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সসহ হাসপাতালে কর্মরতরা ছুটোছুটি করে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় হাসপাতাল চত্বরে শতশত উৎসুক জনতা ভিড় জমান এবং ভর্তিকৃত রোগী ও স্বজনদের খোঁজখবর নেন। এদিকে খবর পেয়ে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক রোকনুজ্জামান সরকার রোকন, হাসপাতালের উপপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকতারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে লিফটের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। এতে লিফটের সব যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। এদিকে আগুনের ঘটনায় প্রায় ২ ঘণ্টা হাসপাতালের নতুন ভবনের অন্যান্য চলমান লিফট বন্ধ থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনরা।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনের এ লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল। রোগীর স্বজনরা খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় কোথাও কোথাও স্তুপ জমে। ফলে লিফটের দ্বিতীয় তলা থেকে নিমিষেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আটতলা ভবনের লিফটের ছাদ পর্যন্ত। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত থাকতে পারে, যা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
তিনি জানান, আগুনের ঘটনায় প্রায় ২ ঘণ্টা হাসপাতালের নতুন ভবনের অন্যান্য চলমান লিফট বন্ধ থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পরপরই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রোগীর স্বজন, হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা জানায়, সিগারেটের আগুন বা বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। বিকাল পৌনে ৬টার দিকে প্রথমে নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নষ্ট লিফটে ধোঁয়া দেখা যায়। পরে নিমিষেই আগুনের লেলিহান শিখা আটতলার ছাদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আগুন আতঙ্কে সিঁড়ি বেঁয়ে হুড়োহুড়ি করে রোগী ও স্বজনরা রাস্তায় নেমে আসে। পুরো হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুন আতঙ্ক। রোগী ও স্বজনদের ডাক-চিৎকারে হাসপাতালে যেন এক হৃদয় বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। নিরাপত্তা কর্মী, পুলিশ ও স্টাফরাও রোগীদের সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করে। এ সময় তাড়াহুড়া করে নামতে গিয়ে আহত হয় কমপক্ষে ২০ জন। এদিকে বিকাল পৌনে ৬টায় আগুন লাগলেও ফায়ার সার্ভিস হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পৌঁছে সন্ধ্যা সোয়া ৬টায়। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রোগী ও স্বজনরা। তাদের মতে, শুধুমাত্র লিফটে না লেগে ওয়ার্ডে আগুন লাগলে হতাহতের সংখ্যা অনেক বাড়ত।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, নগরীতে যানজটের কারণে হাসপাতালে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছতে একটু বিলম্ব হয়েছে। তবে আগুনের মেসেজ পাওয়ামাত্রই ইউনিটগুলো যথাসময়ে যাত্রা করে।
হাসপাতালের উপ-পরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আগুনে হাসপাতালের ওয়ার্ডের বা রোগীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুন লাগার কারণ তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
