লালপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত ১৫ চরাঞ্চল
Advertisement
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ পিএম
লালপুরে পদ্মার পানি বৃদ্ধি, প্লাবিত ১৫ চরাঞ্চল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গত কয়েক দিনের টানা পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীতে বিলীন হয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি, তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। এছাড়া অনেক বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রিফাত করিম জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১৩ দশমিক ৬ মিটার। বিপদসীমা হলো ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। সে অনুযায়ী বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপদসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চরাঞ্চল এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপৎসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এছাড়াও গো-খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছেন গরু মহিষের খামারিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত। এর মধ্যে রয়েছে আখ ৪৩৫ হেক্টর, সবজি ৭ হেক্টর, ফল ৬০ হেক্টর। এতে প্রায় ১৪শ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
উপজেলার পদ্মার চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফসলি জমিগুলো পুরোপুরি পানিতে ডুবে আছে। বাঁশের মাচা বা খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা সবজিখেতগুলোর শুধু উপরের অংশ দেখা যাচ্ছে। অনেক জায়গায় নতুন রোপণ করা মুলা, বেগুন গাছও পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা নৌকা বা ভেলায় করে তাদের ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানির তীব্রতায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফলানো ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে আমার ৪ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরও ৩ বিঘা মুলা ও বেগুন খেত তলিয়ে যাবে।
ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারির চরে মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপদে আছি। বন্যার পানিতে চরাঞ্চল ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই। মহিষকে এখন শুধু ধানের শুকনো পোয়াল আর পানি খাওয়াচ্ছি।
এদিকে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ এ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার।
লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আমরা চর এলাকা পরিদর্শন করেছি, পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবীর হোসেন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, ইতোমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ও বসতভিটাহারা ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
