Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

‘ভাড়ায় গিয়ে’ ব্যাংক কর্মকর্তাকে পেটালেন স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা!

Advertisement

Icon

রাজশাহী ব্যুরো

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ পিএম

‘ভাড়ায় গিয়ে’ ব্যাংক কর্মকর্তাকে পেটালেন স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা!

চন্দ্রিমা থানা

Advertisement

রাজশাহীতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতা ‘ভাড়ায়’ গিয়ে ব্যাংকের এক কর্মকর্তাকে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করেছেন বলে উঠেছে অভিযোগ। এ ঘটনায় ব্যাংক কর্মকর্তা নগরীর চন্দ্রিমা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে চার দিনেও থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।

অভিযুক্ত দুই নেতা হলেন- স্বেচ্ছাসেবক দলের শাহমখদুম থানার সদস্য সচিব মো. মমিন ও চন্দ্রিমা থানার সদস্য সচিব মো. রবিন।

আর ভুক্তভোগী ব্যক্তির নাম মাইনুল হক জুয়েল (৪৫)। তিনি চন্দ্রিমা থানার ছোটবনগ্রাম প্রাইমারি স্কুল মোড়ের বাসিন্দা। জুয়েল রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) রাজশাহী নগরীর কাদিরগঞ্জ গ্রেটার রোড শাখার ব্যবস্থাপক।

গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাসার সামনে ডেকে নিয়েই জুয়েলকে পেটানো হয়। পরে স্থানীয়রা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। লোহার পাইপের আঘাতে তার মাথায় জখম হয়েছিল। হাসপাতালে তার মাথায় তিনটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে তার জখম হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা জুয়েল গত ১০ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মমিন ও রবিনসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করে চন্দ্রিমা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- তার সাবেক শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন আবেদ, সাবেক শাশুড়ি মিনু মমতাজ আরা ডেইজি, সাবেক স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরা এবং ফাহমিদার ছোট বোন আফিয়া জাহিন।

ব্যাংক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দাম্পত্য কলহের কারণে গত বছরের ৬ জানুয়ারি তিনি তার স্ত্রী ফাহমিদা আহমেদ জুরাকে তালাক দেন। সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজনই তাকে পেটাতে স্বেচ্ছাসেবক দলের দুই নেতাকে ‘ভাড়া’ করেছিলেন।

লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রবিন তাকে ফোন করে ডাকেন। তখন তিনি গেলে মমিন ও রবিন তাকে জানান, ফাহমিদ আহমেদ জুরা তাদের পাঠিয়েছেন।

ব্যাংক কর্মকর্তা জুয়েল জানান, তিনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে একটি পাঁচতলা বাড়ি নির্মাণ করেছেন। স্বেচ্ছাসেবক দল নেতারা বাড়িটি তার ছেলেমেয়েদের নামে লিখে দিতে চাপ দেন। তখন তিনি বলেন, তার অবর্তমানে এই বাড়ি তো তাদেরই হবে।

এ সময় মমিন ও রবিন তাকে বলেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদ তার চেম্বারে ডেকেছেন। মাইনুল তখন বলেন, এখন রাত হয়েছে। তিনি সকালে যাবেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তাকে মারধর শুরু করেন। মমিন ও রবিনসহ ১০-১২ জন লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে তাকে পিটিয়ে ফেলে রেখে যান।

ভুক্তভোগী জানান, তার ওপর হামলার ঘটনায় তিনি ন্যায্য বিচার চান। তাই মামলা করতে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু পুলিশ চার দিনেও মামলা রেকর্ড করেনি। উল্টো অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা চন্দ্রিমা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজুর রহমান তাকে বলেন, ‘আপনি সরকারি চাকরিজীবী। মামলা করা ঠিক হবে না। আরও ভেবে দেখেন।’ এভাবে তিনি মামলা করতে নিরুৎসাহিত করেন বলেও ব্যাংক কর্মকর্তার অভিযোগ।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এসআই মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, যারা ঘটনাস্থলে ছিল না, তাদের নামও অভিযোগে লেখা হয়। তাই সংশোধনের জন্য বলা হয়েছিল। মামলা নেওয়া হবে না, এমন না।  মামলা নেওয়ার জন্য আমি নিজেই তাকে ফোন করেছি।

শায়েস্তা করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের ‘ভাড়া’ করার অভিযোগের ব্যাপারে কথা বলতে ব্যাংক কর্মকর্তার সাবেক শ্বশুর আলফাজ উদ্দিন আবেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও ধরেননি। ফোন ধরেননি শাহমখদুম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. মমিনও।

তবে চন্দ্রিমা থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব মো. রবিন বলেন, ভাড়ায় গিয়ে হামলা করার মতো কোনো বিষয় না। আমার বন্ধু মমিনের এক বোনের সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তা জুয়েলের বিয়ে হয়েছিল। তাদের সমস্যার বিষয়টি মমিন আমাকে জানালে আমরা তার কাছে গিয়েছিলাম। কথাবার্তা বলছিলাম। এর মধ্যেই অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়।  কে মারধর করেছে জানি না।

ব্যাংক কর্মকর্তাকে মহানগর বিএনপির সভাপতির চেম্বারে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগও অস্বীকার করেন এই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা। তবে বিষয়টি মহানগর বিএনপি, ছাত্রদলসহ সব সংগঠনের নেতারা জানেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন-অর-রশিদকে ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম