Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

জেলের জালে বিরল ‘কিং চান্দা’

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:২৫ পিএম

জেলের জালে বিরল ‘কিং চান্দা’

Advertisement

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘কিং চান্দা’। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মাছটি মহিপুর মৎস্য মার্কেটে বিক্রির জন্য আনা হলে এর ব্যতিক্রমী আকৃতি দেখতে স্থানীয় জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

মাছটির ওজন তিন কেজি। পরে প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে মোট ২ হাজার ২৫০ টাকায় এটি বিক্রি হয়। ‘রিপন ফিশে’ বিক্রির জন্য মাছটি আনা হলেও পরে আল-আমিন ফিশ বারবিকিউ নামের একটি প্রতিষ্ঠান তাদের ফ্রাই দোকানের জন্য মাছটি কিনে নেয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, মাছটির শরীর চ্যাপ্টা ও প্রায় গোলাকার। পিঠ ও পেটের পাখনা তুলনামূলক প্রশস্ত হওয়ায় দেখতে অনেকটা বাদুড়ের মতো। এ আকৃতির কারণে বাজারে আনার পরপরই মাছটি নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।

স্থানীয় জেলে জামাল হোসেন বলেন, সাগরে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়লেও এ ধরনের চ্যাপ্টা ও বাদুড়ের মতো দেখতে মাছ সচরাচর দেখা যায় না। মাছটি বাজারে আনার পর অনেক মানুষ সেটি দেখতে ভিড় করেন।

আরেক জেলে আবদুর রহিম বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ জালে ওঠে। তবে এই মাছটির আকৃতি অন্য মাছের তুলনায় একেবারেই আলাদা। এর আগে এমন মাছ খুব কমই দেখেছেন তিনি।

মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল ব্যাপারী জানান, মাছটির অস্বাভাবিক আকৃতি ও ব্যতিক্রমী গড়নের কারণে বাজারে আসার পর ক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়। পরে মাছটি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম প্লাট্যাক্স টেইরা। এটি সামুদ্রিক পরিবেশে বসবাসকারী ব্যাটফিশ বা বাদুড় মাছের একটি প্রজাতি। আন্তর্জাতিকভাবে এটি লংফিন ব্যাটফিশ বা টেইরা ব্যাটফিশ নামে পরিচিত।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মেরিন বায়োডাইভার্সিটি পোর্টালে এ প্রজাতির উপস্থিতি সেন্টমার্টিন দ্বীপের প্রবাল প্রাচীর-সম্পর্কিত সামুদ্রিক পরিবেশে নথিভুক্ত রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, প্লাট্যাক্স ধরনের মাছ সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে এ ধরনের মাছের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। তবে কুয়াকাটা উপকূলে ধরা পড়া মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা নিশ্চিত করতে ছবি ও নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ ধরনের মাছের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে একই ধরনের মাছ ধরা পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

মৎস্য-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত প্রজাতির মাছের সঠিক পরিচয় ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। এতে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম