Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

২০ লাখ টাকা ঘুস নিয়েও জাল পর্চা দেন সেই তহশিলদার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম

২০ লাখ টাকা ঘুস নিয়েও জাল পর্চা দেন সেই তহশিলদার

আবদুস সোবাহান। ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড করে দেওয়ার কথা বলে ২৬ লাখ টাকা দাবি করেন পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবদুস সোবাহান। পরে তারা ২০ লাখ টাকায় রাজি হন। ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারণা করে জাল পর্চা করে দেন।

একটি জমির নামজারির জন্য সরকারি ফি এক হাজার ১৭০ টাকা। অথচ নামজারির জন্য আবদুস সোবাহান হাজার হাজার টাকা ঘুস নিয়েছেন। তার ঘুস নেওয়ার একাধিক ভিডিও প্রমাণ যুগান্তরের হাতে এসেছে।

ভুক্তভোগী মহিউদ্দিন খন্দকার জানান, ২০ মে তার কাগজপত্র দেখে দুটি দলিল বাদ দিয়ে চারটি দলিলের ২ একর ৪২ শতাংশ জমির নামজারি করতে তহশিলদার আবদুস সোবাহান প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করেন। দরকষাকষির পর একপর্যায়ে ২০ হাজার টাকায় তাদের সমঝোতা হয়। অগ্রিম ১০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। দুই দফায় তিনি গুনে গুনে এ টাকা নেন। কিন্তু চারটি দলিলের বদলে দুটি দলিলের নামজারি করা হয়। 

তবে ঘুস নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তার দাবি, নামজারি ও দাখিলা বাবদ সব মিলিয়ে তিনি ২ হাজার ৬৭০ টাকা নিয়েছেন। ঘুস লেনদেনের ভিডিও দেখানো হলেও তিনি নিজের বক্তব্যে অনড় থাকেন।

এর আগেও আবদুস সোবাহানের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নের গাব্বুনিয়া গ্রামের ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান খান জানান, উপজেলার মৌকরণে দায়িত্ব পালনকালে ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড সংশোধন করে দেওয়ার কথা বলে সোবাহান ২০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু টাকা নেওয়ার পর তিনি (সোবাহান) যে কাগজ তৈরি করে দিয়েছিলেন পরবর্তীতে সেটি জাল বলে প্রমাণিত হয়। টাকা ফেরত চাইলে উলটো তাদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির মামলা করা হয়। তবে পুলিশের তদন্তে সোবাহানের করা মামলায় তার অপকর্মই উন্মোচিত হয়। নগদ পাঁচ লাখ ও ব্যাংকের মাধ্যমে সাড়ে ১২ লাখ টাকা নেওয়ার প্রমাণ উঠে আসে। মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত।

আতিকুরের চাচা জাকির খান জানান, দূর-সম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় সোবাহানকে তারা বিশ্বাস করেছিলেন। ২৬ একর জমির বিএস রেকর্ড করে দেওয়ার কথা বলে ২৬ লাখ টাকা দাবি করেন সোবাহান। পরে তারা ২০ লাখ টাকায় রাজি হন। ধাপে ধাপে টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রতারণা করে জাল পর্চা করে দেন। এ ঘটনার পর তার বড়ভাই আফজাল খান (আতিকুরের বাবা) অসুস্থ হয়ে মারা যান। টাকা ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ঘটনার বিচার দাবি করেন তিনি। 

তবে এসব অভিযোগও অস্বীকার করেছেন আবদুস সোবাহান। তার দাবি, ওই অর্থ কোনো কাজের বিনিময়ে নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি তার শ্বশুরবাড়ির দলিলসংক্রান্ত পারিবারিক লেনদেন।

এদিকে, ৮ মার্চ রাঙ্গাবালীতে যোগদানের পর আবদুস সোবাহানকে কোনো দায়িত্বে রাখা হয়নি। তার প্রশাসনিক আইডিও নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজমুল হাসান বলেন, সোবাহানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম