Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

যুগান্তর প্রতিবেদন প্রকাশ

এসপি আপেল সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত

Advertisement

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮ পিএম

এসপি আপেল সাময়িক বরখাস্ত, বিভাগীয় মামলার সিদ্ধান্ত

মো. আপেল মাহমুদ

Advertisement

কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের সাবেক পুলিশ সুপার ও সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আপেল মাহমুদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-১ শাখার প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

এর আগে গত ৬ মার্চ যুগান্তরে ‘কয়লা ধুলে ময়লা যায় না এসপি আপেলের’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এতে ট্যুরিস্ট পুলিশের তৎকালীন এসপি আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ লেনদেন, নারীঘটিত অভিযোগ, সৈকতসংলগ্ন স্থাপনা ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনায় অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর ৭ মার্চ তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে যুগান্তরের প্রতিবেদককেও সাক্ষী করা হয়।

তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের অতিরিক্ত ডিআইজি বিধান ত্রিপুরা। তিনি ১৫ মার্চ তদন্তের জন্য কক্সবাজারে আসেন। কমিটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এবং অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষীদের লিখিত ও ভিডিও বক্তব্য নেয়। পাশাপাশি বিভিন্ন নথি ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলো যাচাই করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একজন ডিআইজি পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা জানান, যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে একাধিক নারীকে ফাঁদে ফেলে ধর্ষণের অভিযোগ, পতিতালয় ও স্পা থেকে চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নিজের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটিকে ‘ভুয়া’ ও ‘এডিটিং’ বলে প্রচারসহ নানা অভিযোগের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া সৈকতসংলগ্ন স্থাপনা অনুমোদন ছাড়া বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দেওয়া, অর্থ লেনদেন, নারীঘটিত অভিযোগ, মাদকসংক্রান্ত ঘটনায় প্রভাব বিস্তার এবং কথিত ‘সাংবাদিক ফোর্স’ ব্যবহার করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করার চেষ্টাসহ বিভিন্ন অভিযোগেরও সত্যতা তদন্তে পাওয়া গেছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।

তদন্ত কমিটিকে ‘ভুয়া’ প্রচারের অভিযোগ

এদিকে তদন্ত চলাকালে নিজের বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটি ও বদলির আদেশকে ‘ভুয়া’ এবং ‘এডিটিং’ বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছিলেন আপেল মাহমুদ। নিজের পক্ষে সংবাদ প্রকাশ করিয়ে মূল ঘটনা আড়ালের চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি ও বদলির আদেশ নিয়ে এ ধরনের প্রচারণার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যাচাই করা হয়েছে।

আপেল মাহমুদের পক্ষে প্রচারণা চালাতে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনকে সাংবাদিক পরিচয়ে সামনে আনার অভিযোগও ওঠে। তাদের মাধ্যমে আপেল মাহমুদের পক্ষে সংবাদ, বিবৃতি ও প্রচারণা চালানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিষয়টিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, পরিচয় এবং প্রচারণার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই করা হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, যুগান্তরের অনুসন্ধানে প্রকাশিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাক্ষ্য, নথি ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়। পরে তদন্তের ফলাফল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়। এর পরই আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া এগোয়।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে আপেল মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি। সেখানে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’-এর অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজু এবং সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তের কথা বলা হয়েছে। বিভাগীয় মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম