নিজের সন্তানকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন, টাঙ্গাইল
প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাঙ্গাইলের সখীপুরে সাড়ে ৩ বছরের শিশু আশরাফুলকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মা আকলিমা বেগম বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সিদরাতুল (৮) নামে আরেক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার খালিয়ার বাইদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আশরাফুলের বয়স প্রায় সাড়ে ৩ বছর। আহত সিদরাতুল আকলিমা বেগমের আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ আকলিমা বেগমকে হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, শাহীন মিয়া প্রায় ৩০ বছর আগে প্রথম বিয়ে করেন। ওই সংসারে কোনো সন্তান না থাকায় পরবর্তীতে স্ত্রী নাসিমার উদ্যোগে তিনি দ্বিতীয় বিয়ে করেন। দ্বিতীয় স্ত্রী আকলিমা বেগমের ঘরে আশরাফুলের জন্ম হয়। তবে আকলিমা বেগম বেশিরভাগ সময় ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করায় বাড়িতে থাকতেন না। এ কারণে আশরাফুলকে শাহীন মিয়ার প্রথম স্ত্রী (যাকে শিশুটি ‘বড়মা’ বলে ডাকত) লালন-পালন করতেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আশরাফুল নিজের মাকেও ‘আন্টি’ বলে ডাকত।
স্থানীয়রা জানান, শিশুটি নিজের মাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকায় আকলিমা বেগমের মনে ক্ষোভ বা অভিমান তৈরি হয়ে থাকতে পারে। সেই ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।
তবে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের মধ্যে কোনো পারিবারিক কলহ ছিল না। ফলে ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
ঘটনার বিষয়ে শাহীন মিয়া বলেন, প্রায় ৩০ বছর পর আল্লাহ আমাকে একটি পুত্রসন্তান দান করেছিলেন। সেই সন্তানকে আমার দ্বিতীয় স্ত্রী এভাবে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না। শুধু আমার সন্তানই নয়, আকলিমার আগের স্বামীর ঘরের মেয়ে সিদরাতুলকেও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
সখীপুর থানার ওসি মুরাদ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল সখীপুর ও ভালুকা থানার মধ্যবর্তী এলাকায়। ঘটনার পর শিশুটিকে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছিল, তার লাশ ওখানেই রয়েছে। এদিকে নিরাপত্তা ও চিকিৎসার স্বার্থে শিশুটির মাকে সখীপুর থানা-পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
