চোর অপবাদে দুই নারীকে মারপিট ও ভিডিও ধারণ, গ্রেফতার ২
Advertisement
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
গোপালগঞ্জ শহরের কাপড়পট্টি এলাকায় চুরির অপবাদ দিয়ে দুই নারীকে আটকে মারধর ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভোরে ভুক্তভোগী নারী তৃশা বেগমের অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতাররা হলেন, গোপালগঞ্জ বস্ত্র মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিটু শিকদার ও এলিট ফেব্রিক্সের স্বত্বাধিকারী নিয়ামুল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার দুপুরের দিকে দুই নারী ‘কাপড় আজকে’ দোকানে কাপড় কিনতে যান। পছন্দ না হওয়ায় তারা কাপড় না কিনেই দোকান থেকে বের হয়ে আসেন। কিছুক্ষণ পর কয়েকজন দোকানদার ও কর্মচারী তাদের আটকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে থাকা ব্যাগ নিয়ে টানাটানি ও অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। একপর্যায়ে ওই দুই নারীকে মারধর করে চোর অপবাদ দিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করে জানান, তারা কোনো অপরাধ করেননি। দোকান মালিক ও কর্মচারীরা মিলে তাদেরকে চোর অপবাদ দিয়ে লাঠি দিয়ে মারধর করেছে। তাদের ব্যাগে কোনো কাপড় না থাকা সত্ত্বেও তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগ কেড়ে নিয়ে তার মধ্যে কাপড় ঢুকিয়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, চোর অপবাদ দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও চিত্র ধারণ করে যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এতে তারা পারিবারিক ও সামাজিকভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। এছাড়া, এ ঘটনায় তাদের সংসার ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
এদিকে ধারণকৃত ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করেন তারা। দুজন নারীকে লাঞ্ছিত করে তাদের ভিডিও ধারণ ও ফেসবুকে পোস্ট করে বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়ার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহা. আমিনুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

