পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসকের ওপর হামলা
Advertisement
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুষ্টিয়ার মিরপুরে পানিতে ডুবে রাফি (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকসহ চারজনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হাসপাতালে চিকিৎসকের কক্ষ ভাঙচুর করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটেছে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পীযুষ কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সকালে উপজেলার ফুলবাড়িয়া ইউনিয়নের নওদাপাড়া গ্রামের সাব্বির হোসেনের তিন বছরের ছেলে রাফি পানিতে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি চিকিৎসকের কক্ষে ঢুকে অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে তারা হাসপাতালের ১১ নাম্বার মেডিকেল অফিসারের কক্ষে ভাঙচুর চালান।
এ ঘটনায় ডা. মোছা. রিয়াজুল জান্নাত, উপসহকারী মেডিকেল অফিসার আব্দুস সামাদসহ চারজন আহত হন। কিছুক্ষণ পর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এক শিশু পানিতে ডুবে গেলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখেন- হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে ভাঙচুর করেন। এমনকি কর্তব্যরত চিকিৎসককে হেনস্তা করেন। সংবাদ পাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে মিরপুর থানা থেকে পুলিশ আসে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আমরা ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করি। তাদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা অব্যাহত আছে।
মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. পীযুষ কুমার সাহা বলেন, সকালে শিশুকে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মৃতের স্বজনরা চিকিৎসকের ওপর হামলা চালান ও তার কক্ষ ভাঙচুর করেন। আমরা ঘটনাটি সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনকে জানাই। এরপর প্রশাসন এখানে আসে। তবে আমরা আমাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখিনি।
এদিকে ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির একজন নেতার ছেলে জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত থাকুক, তাদের শাস্তি দাবি করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আশরাফুজ্জামান শাহীন। তিনি বলেন, ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
