কলিকে ধর্ষণের পর হত্যা
লাশ ঘরে রেখে মানববন্ধনে অংশ নেন খুনি মোস্তফা!
Advertisement
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পাবনা সদর উপজেলার কুলুনিয়া গ্রামের পাওয়ারলুম তাঁত কারখানার মালিক কামাল প্রামাণিকের মেয়ে কামরুন্নাহার কলি গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার দিকে বাড়ি থেকে আইসক্রিম কিনতে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সে স্থানীয় আল ফালাহ একাডেমির চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে কলির খোঁজ শুরু করেন। নিখোঁজের পর শিশুটিকে খুঁজতে পরিবারের সঙ্গে পথে নেমেছিলেন এলাকাবাসী। সন্ধান চেয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পাবনা শহরে মানববন্ধনও করা হয়। সেই মানববন্ধনে অন্যদের সঙ্গে অংশ নেন প্রতিবেশী মোস্তফা কামালও।
অথচ এর আগেই শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে তার লাশ বস্তায় ভরে ঘরে লুকিয়ে রেখেছিলেন মোস্তফা কামাল ও তার সহযোগী ইয়াছিন। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্যই বেরিয়ে এসেছে।
নিখোঁজের সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে কলির বস্তাবন্দি টুকরো লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশ উদ্ধারের ঘটনায় কলির বাবা কামাল প্রামাণিক বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় মামলা করেন।
মামলার পর প্রতিবেশী মোস্তফা কামাল ও তার বাড়ির ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করলে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়।
মোস্তফা কামাল কুলুনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে। ইয়াছিন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সুবর্ণসারা গ্রামের মহব্বত আলীর ছেলে। ইয়াছিন নিহত কলির বাবা কামালের পাওয়ারলুম কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মোস্তফা কামালের দ্বিতল বাড়ির নিচতলায় ভাড়া থাকতেন।
যেভাবে হত্যা
মোস্তফা ও ইয়াছিনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানায়, কলিদের বাড়ি থেকে প্রায় ৫শ গজ দূরে মোস্তফার বাড়ি ও মুদি দোকান। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলি আইসক্রিম কেনার জন্য মোস্তফার দোকানে যায়। এ সময় মোস্তফা ফ্রিজ থেকে আইসক্রিম দেওয়ার কথা বলে তাকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে যান। সেখানে কলিকে ধর্ষণ করেন তিনি। পরে তার সঙ্গে যোগ দেন ইয়াছিন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দুজন পালাক্রমে ধর্ষণ করলে কলি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। একপর্যায়ে অবস্থা বেগতিক দেখে তারা কলিকে গলাটিপে হত্যা করেন। পরে লাশ বস্তায় ভরে রাখেন। বস্তায় পুরো শরীর না ধরায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কলির দুই পা কেটে ফেলা হয়।
ঘরে লাশ, বাইরে খোঁজার নাটক
পুলিশ জানায়, কয়েক দিন ধরে কলির বস্তাবন্দি লাশ ঘরের মধ্যেই রেখেছিলেন অভিযুক্তরা। কিন্তু লাশে পচন ধরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বস্তাভর্তি লাশটি দূরে কোথাও ফেলে দেওয়ার জন্য বের হন তারা।
বাড়ি থেকে কিছুদূর যাওয়ার পর কুকুরের আক্রমণের শিকার হন তারা। পরে তড়িঘড়ি করে পাশের ডোবায় লাশটি ফেলে দেন। এরপর অপরাধের আলামত মুছে ফেলতে স্যাভলন দিয়ে ঘরের মেঝে পরিষ্কার করেন।
লাশ উদ্ধারের পর অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ মোস্তফার ঘরে গেলে স্যাভলনের গন্ধ পায়। এরপর সন্দেহের ভিত্তিতে প্রথমে মোস্তফা এবং পরে ইয়াছিনকে আটক করা হয়।
এ হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক রহস্য উদ্ঘাটনের পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
এদিকে দুই আসামিকে শুক্রবার আদালতে সোপর্দ করে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। আদালত রোববার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
