Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে মারার হুমকিদাতা বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, পটুয়াখালী

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ এএম

ব্যবসায়ীকে পুড়িয়ে মারার হুমকিদাতা বিএনপি নেতাকে অব্যাহতি

ফরিদ গাজী। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

পটুয়াখালীর বাউফলে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং এক ব্যবসায়ীকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে বিএনপির এক নেতাকে দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ওই নেতার নাম ফরিদ গাজী।

একই ঘটনায় করা মামলায় গ্রেফতারের পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ফরিদকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

ফরিদ গাজী বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য ছিলেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর জেলা বিএনপির সভাপতি স্নেহাংশু সরকার কুট্টি ও সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান টোটনের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দলের সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলকে চাঁদা না দেওয়ায় হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকির বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড দলের শৃঙ্খলা ও আদর্শের পরিপন্থী এবং এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে জেলা বিএনপির কাছে প্রতীয়মান হয়েছে।

দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখার স্বার্থে জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ফরিদ গাজীকে বাউফল উপজেলা বিএনপির সদস্য পদসহ দলের সব সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং বাউফল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস এলাকায় ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডলের পক্ষে প্রচারণামূলক পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো হয়। এর পরপরই ফরিদ গাজী তার কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মোবাইল ফোনে তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ফোনালাপে ফরিদ গাজীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আপনাকে জীবন্ত পুড়াইয়া মারমু।’ ব্যবসায়ী গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল (৫৩) বাউফল সদর ইউনিয়নের বিলবিলাস এলাকার বাসিন্দা। তিনি গৌরাঙ্গ চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে এবং ঢাকায় আবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। হুমকির পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।

এদিকে ফরিদ গাজীকে বাউফল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দাবি করা হলেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ।

তিনি বলেন, মূল আহ্বায়ক কমিটির তালিকায় ফরিদ গাজীর নাম ছিল না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে উপজেলা কমিটিতে নতুন করে কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সেখানে ফরিদ গাজী সদস্য পদ পেয়েছিলেন। বিষয়টি জেলা বিএনপিকে জানানো হয়েছে এবং জেলা কমিটিই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে।

মামলার বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের পর ফরিদ গাজীকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার তাকে পটুয়াখালী আদালতে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম