Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

‘কে কী উদ্দেশ্যে কী বলছে, জনগণকে সচেতন থাকতে হবে’

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৭ পিএম

‘কে কী উদ্দেশ্যে কী বলছে, জনগণকে সচেতন থাকতে হবে’

Advertisement

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, সরকার জবাবদিহি করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচি, লংমার্চ, সভা-সমাবেশ ও মিছিল করার অধিকারও সবার রয়েছে। তবে জনগণকে সচেতন থাকতে হবে—কে কী উদ্দেশ্যে কী বলছে, তা বুঝতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর একটি গোষ্ঠী জবরদস্তি করে ‘মব’ তৈরি করে মানুষের ওপর নিজেদের মত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এর পেছনে একটি রাজনৈতিক শক্তির উসকানি রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পক্ষের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডকে বিরোধী দলের মঞ্চ থেকে সমর্থন দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। 

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, গুম-খুন, মামলা-হামলা এবং ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে যে রাজনৈতিকভাবে সচেতন জনগোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, তাদের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কোনো নামে বা কোনো ব্যানারে দেশে আর ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হতে দেওয়া হবে না। গণতন্ত্র ও জনগণের সার্বভৌমত্ব বজায় থাকবে এবং জনগণ ভোটের মাধ্যমে সরকার নির্বাচন করবে।

শনিবার বাঞ্ছারামপুরের ফেরিঘাট এলাকায় ভূলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর-শিবপুর-রাধিকা আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২০৩) ও সরাইল-নাসিরনগর-লাখাই আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-২২০) সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রাস্তার উন্নয়ন করতে গেলে অনেক ঘরবাড়ি ভাঙতে হবে, জমি অধিগ্রহণ করতে হবে এবং গাছপালা কাটতে হবে—এটাই বাস্তবতা। তবে এলাকার মানুষ রাস্তার প্রয়োজনীয়তা বোঝেন। তাই শুধু রাস্তা মেরামত নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী তা প্রশস্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, আগের সরকারগুলোর সময়ে প্রকল্প অনুমোদন হলেও বাস্তবায়নে পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত সময় লেগেছে। বর্তমান সরকার শুধু প্রকল্প অনুমোদন নয়, দ্রুত বাস্তবায়নে জোর দিচ্ছে। এ জন্য ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন সংস্কার’ আনা হচ্ছে।

প্রকল্পের আওতায় ২৬ দশমিক ৭০৮ কিলোমিটার ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট ও ৪ দশমিক ৫৪৮ কিলোমিটার রিজিড পেভমেন্ট, ছয়টি সেতু, ৪৬টি কালভার্ট, ২১ দশমিক ৪৫৮ কিলোমিটার রক্ষাপ্রদ কাজ, ১৪ দশমিক ৭৭৪ কিলোমিটার ড্রেন এবং আটটি বাস-বে নির্মাণ করা হবে। এ জন্য ৭৮ দশমিক ৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হয়েছে।

প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ খাতে ৪৯৫ কোটি ৪২ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ইউটিলিটি স্থানান্তরে ৯ কোটি ৬১ লাখ ৩ হাজার টাকা এবং নির্মাণ ও পূর্তকাজে ৫৩৯ কোটি ৬৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগরের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সরাসরি ও উন্নত সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি যাতায়াতের সময় ও খরচ কমবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবাতেও এর প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করছেন।

জ্বালানি খাতের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সরকার পাঁচ বছরে ১৫০টি গ্যাস কূপ খননের লক্ষ্য নিয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি কূপ দ্রুত খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোফাজ্জল হায়দার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. এহসানুল হক, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নিয়ামতুল্লাহ ভূঁইয়া, অতিরিক্ত সচিব কবির উদ্দিন আহমেদ, কৃষি, পানি ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের যুগ্ম সচিব বাবুল মিয়া, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনিসুর রহমান এবং পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. ওয়ালিউর রহমান।

এছাড়া জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে ছিলেন- বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান পলাশ, সাধারণ সম্পাদক একে এম মুসা এবং গণসংহতি আন্দোলনের বাঞ্ছারামপুর সমন্বয়ক শামীম শিবলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম