দৌলতদিয়ার বেশির ভাগ ঘাট বন্ধ, ভোগান্তি চরমে
Advertisement
শামীম শেখ, গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
দৌলতদিয়ার বেশির ভাগ ঘাট বন্ধ, ভোগান্তি চরমে
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটে ঘাট সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে। এখানকার সাতটি ঘাটের মধ্যে বর্তমানে চালু রয়েছে মাত্র দুইটি ঘাট। অপর পাঁচটি ঘাট বিভিন্ন সময় নদীভাঙন এবং নাব্য সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে এই নৌ-রুটে প্রবল স্রোত, নাব্য সংকট ও ঘাট সমস্যার কারণে স্বাভাবিক যানবাহন পারাপার ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিটি ফেরি পারাপারে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে।
সর্বশেষ গত শুক্রবার ভোর থেকে নাব্য সংকটের কারণে চালু থাকা দৌলতদিয়ার ৭নং ফেরিঘাটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা।
এতে করে দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পণ্যবাহী ট্রাক, বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ যাত্রী এবং যানবাহনের শ্রমিকদের অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।
হঠাৎ করে ৭নং ঘাটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই ঘাটের দুই পাশের দোকানপাট, হোটেল ও অন্যান্য আয়নির্ভর উৎসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এতে ঘাটের ওপর নির্ভরশীল লোকগুলো চরম বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে পাশাপাশি অবস্থিত ৬ ও ৭নং ঘাট সংলগ্ন বাসিন্দারা নদীতে তীব্র স্রোতের মধ্যে ড্রেজিং শুরু নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন এখনই ড্রেজিং শুরু করা হলে নদীরপাড় ধসে গিয়ে সংলগ্ন সাত্তার মেম্বারপাড়ার শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় ঝুঁকি রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি সূত্রে জানা গেছে, দৌলতদিয়ায় ৭টি ফেরিঘাট থাকলেও গত কয়েক বছরে নদী ভাঙনের কারণে বন্ধ রয়েছে ৪টি ঘাট। ঘাটগুলো হচ্ছে- ১, ২, ৫ ও ৬নং। এর মধ্যে ৫নং ঘাটটি সম্প্রতি সংস্কার করা হলেও ঘাটটি অদৃশ্য কারণে চালু করা হচ্ছে না। গত শুক্রবার ভোর থেকে দৌলতদিয়ার এই প্রান্তে চালু রয়েছে মাত্র ৩ ও ৪নং ঘাট দুটি।
তবে পদ্মা নদীতে বর্তমানে প্রবল স্রোত থাকায় উজানে অবস্থিত ৩ ও ৪নং ঘাট দুটিতে বড় আকৃতির রো রো ফেরিগুলো ভিড়তে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। যে কারণে নদী পার হতে প্রতিটি ফেরির প্রায় দ্বিগুণ সময় লাগছে। এতে করে ঘাট এলাকায় শতশত যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ে নিয়োজিত এজিএম (বাণিজ্য) মোহাম্মদ সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রবল স্রোতের কারণে ৭নং ঘাটের বেসিনে প্রচুর পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ওই ঘাটটিতে শুক্রবার ভোর হতে কোনো ফেরি ভিড়তে পারছে না। এখানে বর্তমানে চালু রয়েছে শুধুমাত্র ৩ ও ৪নং ঘাট দুটি।
প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শেষের দিকে দৌলতদিয়া প্রান্তে তীব্র স্রোত, নাব্য সংকট ও ঘাট সমস্যার কারণে তাদের ভোগান্তি হয়ে আসছে।
বিআইডব্লিউটিসির আরিচা কার্যালয়ের এজিএম (মেরিন) মো. আল মামুন জানান, নাব্য সংকটের কারণে আরও আগে থেকেই তাদের ফেরি চালানোতে বিঘ্ন ঘটছিল। প্রয়োজনীয় সার্ভে শেষ করে দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করতে তিনি ইতোমধ্যে পত্র দিয়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষকে পত্র দিয়ে অনুরোধ জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর আরিচা কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হাছান আহমেদ যুগান্তরকে জানান, তারা সর্বোচ্চ ৩ থেকে ৪ নটিক্যাল মাইল স্রোতের মধ্যে ড্রেজিং কার্যক্রম করে থাকেন। দৌলতদিয়া প্রান্তে বর্তমানে স্রোতের তীব্রতা ৭ নটিক্যাল মাইলে প্রবাহিত হচ্ছে; যা অত্যন্ত তীব্র। এর মধ্যে ড্রেজিং করা হলে স্রোতের প্রবাহে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। নদীপাড়ের গ্রামবাসীরাও বিষয়টি নিয়ে আমাদের কাছে আপত্তি জানিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে রোববার রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক মিজ আফরোজা খানমের সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আগামী এক সপ্তাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পর স্রোতের তীব্রতা কমে এলে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
