অপ্রতিম হত্যা: আনাস-ফাহিমের আটক নিয়ে পুলিশের বক্তব্যেই অমিল!
Advertisement
কুবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।
গতকাল তাদের আটকের কথা জানিয়েছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস। তবে আজ (রোববার) সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, আনাস ও ফাহিম নামে কাউকে পুলিশ আটক করে নাই। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটায় সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার এবং আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। গ্রেফতার তিনজন হলেন তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল হাসান। আটক ব্যক্তি সিয়াম।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার তুহিনের বয়স ১৯ বছর। তিনি নগরীর ২৪নং ওয়ার্ডের সানন্দা এলাকার বাসিন্দা। কুমিল্লা সিটি কলেজ থেকে একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ঝরে পড়েছেন তিনি। ফাহাদের বয়স ১৫ বছর। তিনি একই ওয়ার্ডের সালমানপুর এলাকার বাসিন্দা এবং ময়নামতি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। কামরুল হাসানের বয়স ১৮ বছর। তার বাড়ি সদর দক্ষিণ উপজেলার হাতিগাড়া গ্রামে। আটক সিয়ামের বয়স ১৯ বছর এবং তার বাড়ি একই উপজেলার এলাহীপুর গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে আনাস ও ফাহিমের নাম না আসায় তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, আনাস ও ফাহিম নামে কাউকে পুলিশ আটক করে নাই। আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি।
তবে পুলিশের এই বক্তব্যের সঙ্গে গতকালের বক্তব্যের অমিল রয়েছে। গতকাল সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস জানিয়েছিলেন, অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাওয়ার পর তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস বলেন, তাদের ডিবি আটক করেছিল। পুলিশ তাদের আটক করেনি। ডিবি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পরে ছেড়ে দিয়েছে হয়তো। কেননা, সন্দেহভাজন হিসেবে এমন আটক করা হয়।
এছাড়া গতকাল কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শকও ফাহিম আহমেদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়। ফলে আনাস ও ফাহিমকে ঘিরে গতকাল পুলিশের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আজকের বক্তব্যে পার্থক্য দেখা দিয়েছে।
এর আগে শুক্রবার বিকালে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাসায় ফেরেনি। পরে তার বাবা কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পুলিশ জানিয়েছিল, অপ্রতিমের মোবাইলের অবস্থান শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত গন্ধমতী এলাকায় শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ফোনটির আর কোনো অবস্থান পাওয়া যায়নি।
শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে লাশের সঙ্গে অপ্রতিমের মায়ের আইফোনটি পাওয়া যায়নি।
নিহত অপ্রতিম স্থানীয় বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে ড. নাহিদা বেগম ও কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান।

