মাকে কুপিয়ে ভাতিজিকে মাটিতে আছড়ে হত্যা
Advertisement
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাকে কুপিয়ে হত্যা ও ভাবিকে জখমের পর পাশে থাকা আপন ভাতিজি শিশু ইসরাত জাহানের দুই পা ধরে মাটির সঙ্গে আছড়ে হত্যা করেছে ইমন নামে এক যুবক।
সোমবার সকালে উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের বড়শালঘর গ্রামের দক্ষিণপাড়ার মোস্তফা মাস্টারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডের পর ইমনকে (২৫) আটক করে পুলিশে দেন স্থানীয়রা।
ঘাতক ইমন ওই বাড়ির মৃত ফরিদ মিয়ার ছেলে।
শাশুড়ি ও একমাত্র সন্তানের মৃত্যুর পর এখন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রাবেয়া আক্তার। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিশু ইসরাত জাহানের বাবা সোমবার বিকালে বাদী হয়ে ছোট ভাই ইমনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়েরের পর কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়।
ঘাতক ইমন সাংবাদিকদের বলেন, আমি অনেক দিন ধরে অসুস্থ, আমি এই যন্ত্রণা থেকে বাঁচার জন্য মরতে চাই। আমি আত্মহত্যা করতে গিয়েছি কিন্তু আমাকে মরতে দেয় নাই এবং আমি তাদের বলেছি আমাকে মেরে ফেল, তারা আমাকে মারে না। তাই আমি তাদের মেরে ফেলেছি।
স্থানীয়রা জানান, ইমন পেশায় একজন দিনমজুর, গত তিন-চার মাস পূর্বে ফুটবল খেলতে গিয়ে পা ভেঙে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় বিছানায় পড়ে আসে সে। একাধিকবার পায়ের অস্ত্রোপচারের পরও সুস্থ না হওয়ায় আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে ইমন; কিন্তু মা ও পরিবারের সদস্যদের বাধার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার সকালে মা পিয়ারা বেগমকে (৬৫) দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে এবং এ সময় শাশুড়িকে বাঁচাতে এলে ভাবি রাবেয়া আক্তারকে (২৫) কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
ওই সময় পাশে থাকা ৮ মাসের ভাতিজি ইসরাত জাহানকে দুই পা ধরে মাটির সঙ্গে আছড়ে হত্যা করে ইমন। ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ভাবিকে উদ্ধার করে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, সোমবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে আসামি ইমনকে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার পিয়ারা বেগম ও ইসরাত জাহানের ময়নাতদন্ত শেষে লাশ দাফন করা হবে।
