ড. খন্দকার মারুফ
আ.লীগ ১৬ বছর একদলীয় শাসন চালিয়ে জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:০৯ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেছেন, আওয়ামী লীগ গত ১৬ বছর একদলীয় শাসন চালিয়ে বাকশালী কায়দায় দেশের জনগণকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। গায়ের জোরে বিনাভোটে ক্ষমতা দখলে রেখে তারা জাতির ওপর জগদ্দল পাথরের মতো চেপে বসেছিল।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুরে আওয়ামী লীগের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিবুর রহমান একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র হত্যা ও জনগণের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। পরবর্তীতে শেখ হাসিনা একইভাবে বিএনপি ও ভিন্নমতের নেতাকর্মীদের গুম, অপহরণ ও হত্যার মাধ্যমে দমন করেছেন। মিথ্যা মামলায় আয়নাঘর ও কারাগারে আটকে রেখে অসংখ্য মানুষের জীবন ও পরিবার বিপন্ন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সংগঠন। কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতারা বিদেশে বসে দেশে অশান্ত পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। মাতৃভূমিতে অশান্তি সৃষ্টির জন্য তারা এমন আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। তাদের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড সহ্য করা হবে না। শান্তিপ্রিয় জনগণ তাদের সহিংস তৎপরতার জবাব দেবে।
ড. খন্দকার মারুফ আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে দুঃশাসন, জুলুম ও নিপীড়নে দেশের মানুষ কষ্ট পেয়েছে। ক্ষমতার বাইরে গিয়েও তারা দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৬ বছরে গণতন্ত্র, অর্থনীতিসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে গেছে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একদলীয় বাকশাল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রবর্তন ও বাকস্বাধীনতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে টেকসই উন্নয়ন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন বলে তিনি দাবি করেন।
তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, তিনি দুর্নীতি ও অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছেন। তার গতিশীল নেতৃত্বে দেশ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় শিষ্টাচারের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে তিনি জনগণের দৃষ্টি কেড়েছেন। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের মানবিকতা, মমত্ববোধ ও দেশপ্রেম অসাধারণ। এমন একজন সরকারপ্রধানের বিরুদ্ধে বিরোধী জোট কটূক্তি করছে, যা দুর্ভাগ্যজনক ও অনভিপ্রেত।
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, একই সময়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতারা বিদেশে বসে সন্ত্রাস ও সহিংসতার হুমকি দিচ্ছেন। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও দুঃখজনক।
তিনি জনগণের জানমাল এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস ও অশুভ তৎপরতা মোকাবিলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশ শেষে ড. খন্দকার মারুফ হোসেনের নেতৃত্বে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গৌরীপুর স্টেশন থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি এ সমাবেশ ও মিছিলের আয়োজন করে।
আয়োজক সংগঠনের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাশেমের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ওসমান গণি ভূইয়া, সুফিয়া আক্তার ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এম. এ. লতিফ ভূইয়া, সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিমউদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুস সাত্তার, দাউদকান্দি পৌর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, সদস্য সচিব কাউসার আলম সরকার, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, সদস্য সচিব এস. এম. সালাহউদ্দিন সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক দিলারা শিরীন, দেবিদ্বার উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. জসিমউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম এবং তিতাস উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সালাহউদ্দিন সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
