গৃহবধূর ছবি এডিট করে ছড়িয়ে দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেফতার
Advertisement
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সিলেটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক গৃহবধূর ছবি বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণভাবে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
সোমবার সিলেটে দায়ের করা একটি বহুল আলোচিত সাইবার মামলার তদন্তের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলার আওতায় আনা হয়।
গ্রেফতারকৃত প্রেমিক-প্রেমিকা জুটি হলো সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সজনপুর গ্রামের নগেন্দ্র সরকারের ছেলে পিকলু সরকার (৩০) এবং একই উপজেলার খাগাউড়া গ্রামের রমা তালুকদারের মেয়ে তুষ্টি তালুকদার (২৮)।
মামলার নথি ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২৫ ও ২৭ ধারায় সিলেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্তরা তাদের নিজস্ব ফেসবুক আইডি থেকে প্রথমে ভুক্তভোগী নারীর ছবি সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি প্রয়োগ করে সেই ছবি বিকৃত ও আপত্তিকরভাবে সম্পাদনা (এডিট) করে পিকলু সরকারের ছবির সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে। শুধু প্রকাশ করাই নয়, সম্পাদিত অশালীন ছবি ও ভিডিও ভুক্তভোগী নারীর স্বামীসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও ব্ল্যাকমেইল করার অপচেষ্টা চালানো হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী নারী আইনের আশ্রয় নিলে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআই সিলেট জেলাকে নির্দেশ প্রদান করেন। পিবিআইয়ের তদন্ত দল আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সঙ্গে অভিযুক্তদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও তথ্য-প্রমাণের সত্যতা পায়। পরবর্তীতে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পিকলু সরকার ও তুষ্টি তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারের পর আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে প্রেমিক পিকলু সরকার বিচারকের কাছে অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আদালত তার জবানবন্দি নথিভুক্ত করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন এবং মামলার চূড়ান্ত তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পিবিআই সিলেট জেলার তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অপরাধে ব্যবহৃত আলামত হিসেবে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল ডিভাইসগুলো জব্দ করা হয়েছে, যা ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হবে। পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ফরেনসিক প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে দ্রুতই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।
