কবুতরের বাসায় হ্যাকিংয়ের আস্তানা, ২০ সিসিটিভি বসিয়েও ধরা
Advertisement
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০১ এএম
ছবি: যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পুলিশের নজর এড়াতে বাড়ির সামনে ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি নাটোরের লালপুরের ‘ইমো হ্যাকিং চক্রের সর্দার’ ওহিদুল মোল্লার (৩২)। এছাড়াও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে লালপুর থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকালে গ্রেফতারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিনগত গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে ওহিদুলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওহিদুল লালপুর উপজেলার বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ওহিদুলের অধীনে এলাকায় কয়েকশ হ্যাকার চক্র গড়ে উঠেছে। সবার কাছে তিনি ‘ইমু সর্দার’ হিসেবে পরিচিতি পান।
ওহিদুল প্রাচীরঘেরা পাকা বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার বাসা বানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি খাটে তিনি ঘুমাতেন। বাইরে থেকে দেখে কেউ বুঝতে পারবে না, সেখানে মানুষের থাকার ব্যবস্থা আছে। সেই ঘরে দামি আসবাবপত্র, সিসিটিভি মনিটর ও এসি বসিয়েছেন। হ্যাকিংয়ের কাজের জন্য তিনি নয়টি মোবাইলে ব্যবহার করতেন ৬৮টি সিম।
পুলিশ আরও জানায়, এখানে বসে তিনি হ্যাকিং করে অন্যের মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ নিতেন। কোনটি বিকাশ, কোনটি নগদ, হিসাব রাখতে সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করতেন। যাতায়াতের জন্য দামি মোটরসাইকেল ব্যবহার করতেন। সঙ্গে থাকত একাধিক দেহরক্ষী।
বিষয়টি নিশ্চিত করে লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় লালপুর থানার এসআই আল মাসুম বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ওহিদুল মোল্লা ছাড়াও তাঁর পাঁচ সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে লালপুর থানা পুলিশ।
গ্রেফতার মো. ওহিদুল মোল্লা (৩২), মো. সাব্বির হোসেন (২৩), মো. মোতাকাব্বির আলী (২৩), মো. শুকুর আলী (৫০), মুক্তার হোসেন (৩৪) ও মো. আলামিন (২৩)কে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

