Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

১৮ মামলার আসামি সেই শ্রাবণ তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, নারায়ণগঞ্জ

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫১ পিএম

১৮ মামলার আসামি সেই শ্রাবণ তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার

Advertisement

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার ১৮ মামলার আসামি শ্রাবণ ওরফে ‘কুত্তা শ্রাবণকে' তিন সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে (স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন) এসআরবি-১১। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ছয়টি রামদা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাতে রূপগঞ্জের তারাবো এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার অন্যরা হলেন- শ্রাবণের সহযোগী সিয়াম (২০), দিপু (১৯) ও কামরুজ্জামান (১৯)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাসুদ পারভেজ।

এসআরবি জানায়, রূপগঞ্জের তারাবো এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে আসছিল শ্রাবণ ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এলাকার বিভিন্ন শিল্পকারখানা ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে একই এলাকার আরেক কিশোর গ্যাং লিডার নবী হোসেনের সঙ্গে শ্রাবণের বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে প্রায়ই দুই গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটত।

এসআরবি আরও জানায়, শ্রাবণ দীর্ঘদিন ধরে রূপগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় কিশোর ও উঠতি বয়সি তরুণদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং ও সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আসছিল।

সম্প্রতি রূপগঞ্জে ফল ব্যবসায়ী রনিকে হত্যার ঘটনায় শ্রাবণ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে স্থানীয়রা শ্রাবণের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।

এছাড়া শ্রাবণের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা তুলে না নেওয়ায় রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার টাটকি এলাকায় গভীর রাতে মামলার বাদী আমেনা বেগমের বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও জানায় এসআরবি।

এসআরবির ভাষ্য, রূপগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রাবণ ও তার গ্যাংয়ের সদস্যরা প্রকাশ্যে বাড়িঘরে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালাত। তার নেতৃত্বে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা বিভিন্ন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করত।

পুলিশ জানায়, শ্রাবণের বিরুদ্ধে হত্যা, মারামারি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক, ছিনতাই, নারী নির্যাতন ও ডাকাতিসহ ১৮টি মামলা রয়েছে। তার নেতৃত্বে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এলাকার চিহ্নিত অপরাধীদের নিয়ে একাধিক কিশোর গ্যাং ও অপরাধী চক্র গড়ে ওঠে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী নিশান মিলের ওয়াকওয়ে, তারাবো শিল্পাঞ্চল, সুলতানা কামাল সেতু ও তারাবো বাজার এলাকা ছিল শ্রাবণের অপরাধ কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। মাদকের স্পট নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, জমি দখল ও অবৈধ অস্ত্রের ব্যবসার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে শ্রাবণ বাহিনীর সদস্যরা প্রায়ই প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে মহড়া দিত বলে পুলিশ জানায়।

সম্প্রতি শ্রাবণের প্রতিপক্ষ নবী হোসেন ও তার তিন সহযোগীকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। পরে তাদের রূপগঞ্জ থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম