অসহায়ের জন্য বরাদ্দকৃত সাড়ে ৭ টন চালের হদিস নেই
Advertisement
বেলকুচি-চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বন্যা, নদী ভাঙন ও অসহায়ের মধ্যে বিতরণের জন্য সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার খাসপুখুরিয়া ও বাঘুটিয়া ইউনিয়নে বরাদ্দকৃত জিআরের প্রায় সাড়ে ৭ টন চালের কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছে না।
স্থানীয়রা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগ তুলছেন, তবে ইউএনও বলছেন দ্রুত বিতরণে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে, ব্যত্যয় ঘটলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বাঘুটিয়া ইউপি সচিব অপূর্ব সরকার জানান, ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে বুধবার মাথাপিছু ৩০ কেজি করে ৬০০ মানুষের মধ্যে চাল বিতরণের কথা ছিল। তবে ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান কাউকে না জানিয়েই চালগুলো উত্তোলন করেছেন; কিন্তু পরিষদে বিতরণের জন্য বিনানই পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এনে রেখেছেন ৫২০ বস্তা।
বিষয়টি জানাজানি হলে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান শাকিল সকালের দিকে এসে ৮০ বস্তা চাল কমের সত্যতা পান। এ সময় ৮০ বস্তা অর্থাৎ দুই হাজার চারশ কেজি চালের কোনো হসিদ পাওয়া না গেলে বিতরণ বন্ধ রাখা হয়। একই দিন খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নে জিআরের ৫ টন চালের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। এ খবরে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এসব বিষয়ে বক্তব্য নিতে খাসপুকুরিয়ার চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ও বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহেদী হাসান শাকিল যুগান্তরকে জানান, বাঘুটিয়া এবং খাসপুখুরিয়া ইউনিয়নের জিআরের চালের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তালিকাভুক্ত অসহায়দের মাঝে সঠিক নিয়মে বিতরণের নির্দেশনা অমান্য করলে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে অসহায় পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত চাল এভাবে আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত চাল বিতরণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
