Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

রাজমিস্ত্রি থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’ ওহিদুল

Advertisement

Icon

লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ পিএম

রাজমিস্ত্রি থেকে ‘হ্যাকিং সম্রাট’ ওহিদুল

Advertisement

ওহিদুল মোল্লা (৩২) উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের মৃত রব্বেল মোল্লার ছেলে। মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান ওহিদুল প্রায় পাঁচ বছর আগেও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। পরে কিছুদিন ইজিবাইক চালিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আগে চুরির অভিযোগে কয়েকবার আটক হওয়ার তথ্যও রয়েছে।

বুধবার পুলিশের প্রেস বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, সময়ের সঙ্গে হ্যাকিং ও ডিজিটাল প্রতারণায় জড়িয়ে পড়েন ওহিদুল। বিলমাড়িয়া বাজারসংলগ্ন নদীর ধারে নতুন একটি বাড়িতে তিনি হ্যাকিং ও মাদক ব্যবসার কার্যক্রম চালাতেন। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে তিনি দুটি বাড়ি করেছেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। বাড়ি দুটির চারপাশেই রয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরার নজরদারি ব্যবস্থা।

লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, বিলমাড়িয়া এলাকায় ওহিদুলকে হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ হিসেবে মানতেন তার সহযোগীরা। তার নেতৃত্বে এলাকায় একটি হ্যাকিং চক্র গড়ে ওঠার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

কবুতরের ঘরের আড়ালে ‘নিরাপদ’ আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন তিনি। গ্রেফতার এড়াতে ওহিদুল তার বাড়ির নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। ফলে অপরিচিত কেউ এলাকায় প্রবেশ করলেই তার গতিবিধি নজরে আসত।

আরও চমকপ্রদ ছিল তার থাকার ব্যবস্থা। বাড়ির একটি কক্ষে কয়েকশ কবুতর রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেই ঘরের মধ্যেই তৈরি করা হয়েছিল একটি বিছানা। সেখানে ছিল সিসিটিভি মনিটর, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র ও অন্যান্য আসবাবপত্র। বাইরে থেকে দেখলে সেটিকে মানুষের থাকার ঘর বলে বোঝার উপায় ছিল না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

হ্যাকিংয়ের কাজে ৯টি মোবাইল ফোনে অদলবদল করে ব্যবহার করা হতো ৬৮টি সিম কার্ড। কোন সিম কোন কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, তা বোঝাতে বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নও দেওয়া ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে পুলিশ।

অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হতো

পুলিশের দাবি, এসব নম্বরের শেষ চারটি ডিজিটের সঙ্গে মিল রেখে নতুন মোবাইল নম্বর তৈরি করা হতো। পরে প্রবাসীদের পরিচিত বিকাশ এজেন্টদের বিভ্রান্ত করে ওই নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিকাশ বা নগদ অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলা হতো। এভাবে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে চক্রটির বিরুদ্ধে।

ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে লালপুর থানা পুলিশ ওহিদুল ও ছয় সহযোগীকে আটক করে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পুলিশ সদস্য আল আমিন উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়া গ্রামের আতাহার প্রামাণিকের ছেলে এবং রাজশাহী আরআরএফের কনস্টেবল। গ্রেফতারের পর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত হয় বলে জানিয়েছে থানা পুলিশ।

আল আমিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে হ্যাকিং ও প্রতারণার অভিযোগে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা হয়েছে। ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় ওহিদুল মোল্লা, আল আমিন ও মুক্তার আলীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

পানসিপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আলতাব হোসেন বলেন, আল আমিনকে গ্রেফতারের কথা তিনি শুনেছেন। তিনি কৃষক পরিবারের সন্তান এবং প্রায় পাঁচ বছর আগে পুলিশে চাকরি পেয়েছেন। তবে আল আমিন মাদক ব্যবসা বা হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত কিনা, সেই বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।

ছুটি ছাড়াই বাড়িতে, বিভাগীয় ব্যবস্থা হবে

রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) রাজশাহীর কমান্ড্যান্ট (অতিরিক্ত ডিআইজি) দীন মোহাম্মদ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বলেন, নাটোর জেলা পুলিশের কাছ থেকে আল আমিনকে গ্রেফতারের বিষয়টি তিনি জেনেছেন। জেলা পুলিশ লিখিতভাবে বিষয়টি জানালে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।

তিনি আরও জানান, আল আমিন কোনো ছুটি না নিয়েই সোমবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম