Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

মেঘনায় ট্রলারডুবিতে একজনের লাশ উদ্ধার, একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন, সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৪ পিএম

মেঘনায় ট্রলারডুবিতে একজনের লাশ উদ্ধার, একই পরিবারের ৪ জন নিখোঁজ

Advertisement

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সোনামূহী এলাকা দিয়ে প্রবাহিত মেঘনা নদীতে বৃহস্পতিবার বিকালে ঝড়ের কবলে পড়ে একটি ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ওই ট্রলারে থাকা বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য রওনা হওয়া একই পরিবারের ৫ জন নিখোঁজ হয়।

সন্ধ্যায় মেঘনা নদী থেকে রায়েশা বেগম (৫৫) নামের নিখোঁজ এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হলেও ওই পরিবারের এখনো ৪ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের সন্ধানে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় স্বজনের আহাজারিতে বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।

মৃত রায়েশা বেগমের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামে। তিনি নিখোঁজ জাকির হোসেনের স্ত্রী।

নিখোঁজ একই পরিবারের বাকি চারজনের মধ্যে রয়েছেন- জাকির হোসেন (৫৪), ছেলে সজিব হোসেন (২৪), মেয়ে সামিয়া আক্তার (১৭) ও ছেলে সামিন হোসেন (৫)।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১৪ জন স্বজন নিয়ে একটি ট্রলারযোগে রওনা হন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেন ও তার পরিবারের সদস্য স্ত্রী রায়েশা বেগম, ছেলে সজিব হোসেন, মেয়ে সামিয়া আক্তার ও ছোট ছেলে সামিন হোসেন। তাদের সঙ্গে ট্রলারে বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসিসহ বিভিন্ন মালামাল ছিল।

পথে মেঘনা নদীর সোনারগাঁ উপজেলার সোনামূহী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে তাদের ট্রলারটি পৌঁছার পর হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়ে। একপর্যায়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এ সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার তাৎক্ষণিক ডুবে যাওয়া ট্রলারের যাত্রীদের উদ্ধারে তৎপরতা চালায়।

উদ্ধারকারী ট্রলারের লোকজন ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও একই পরিবারের জাকির হোসেনসহ তার পরিবারের ৫ জন সদস্য নিখোঁজ হন। পরে নৌপুলিশ ও এলাকাবাসী তৎপরতা চালিয়ে জাকির হোসেনের স্ত্রী রায়েশা বেগমের লাশ উদ্ধার করেন। নিখোঁজ বাকি চারজনের সন্ধান পাওয়া যায়নি। তবে নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দল মেঘনা নদীতে তৎপরতা চালাচ্ছে।

সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জাহিদ চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরির দল মেঘনা নদীতে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে তৎপরতা শুরু করে। উদ্ধারকারী দল নদীর বিভিন্ন স্থানে ও ঘটনাস্থলে র‌্যাকির কাজ শুরু করেছেন। নদীতে সন্ধ্যা নেমে আসার কারণে ডুবুরি দল কাজ করতে পারছে না। রাতে সন্ধান না পেলে সকাল থেকে আবারও উদ্ধার তৎপরতা চালানো হবে।

বৈদ্যেরবাজার নৌ ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও ৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিস, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য গরু, খাসি ও বিয়ের বাজার নিয়ে তারা সোনারগাঁ উপজেলার হাড়িয়া বৈদ্যেরপাড়া এলাকায় আসছিলেন। হঠাৎ মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের বহন করা ট্রলারটি ডুবে যায়। ইতোমধ্যে ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলেও সন্ধ্যা নামার কারণে উদ্ধার তৎপরতা চালাতে পারছেন না।

সোনারগাঁ থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুল বারিক জানান, রায়েশা বেগমের লাশ সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। তার পরিবারের বাকি ৪ সদস্যকে উদ্ধারের ব্যাপারে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম