Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

ইউপি সদস্যের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিপাকে বিধবা

Advertisement

Icon

ব্রাহ্মণপাড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৯ এএম

ইউপি সদস্যের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বিপাকে বিধবা

Advertisement

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের বিরুদ্ধে বিধবাকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজি না হওয়ায় তাকে যৌন হয়রানির পাশাপাশি ভয়ভীতি ও হুমকিও দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বিধবার ছেলের নামে গাঁজার মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেছে, ওই নারীর কাছে বড় অঙ্কের চাঁদা দাবিও করা হচ্ছে। এমনকি গভীর রাতে বসতঘরের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিধবা বুধবার বুড়িচং থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার বাড়ি উপজেলার বাকশীমূল ইউনিয়নে। বিধবার অভিযোগ, স্বামী মারা যাওয়ার পর চার সন্তান নিয়ে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন। সংসার চালাতে হিমশিম খেয়ে সরকারি সহায়তার আশায় ইউপি সদস্য মো. আবুল কাসেমের কাছে যান। তিনি চালের কার্ডসহ বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন। এর বিনিময়ে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, রাজি না হওয়ায় আবুল কাসেম তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ক্ষতিসাধনের হুমকি দিতে থাকেন। এছাড়া বড় অঙ্কের চাঁদা দাবিও করা হচ্ছে। বিধবার অভিযোগ, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ২টার দিকে আবুল কাসেম তার বসতঘরের দরজা খোলার জন্য ধাক্কাধাক্কি করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি চিৎকার দিলে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন ওই ইউপি সদস্য। ওই নারীর অভিযোগ, বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এতে সাড়া না দিলে সামাজিকভাবে হেয় করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে সন্তানদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অভিযোগে দাবি, গত ১৯ সেপ্টেম্বর একই এলাকার আবুল কাসেম মেম্বারের ঘনিষ্ঠ ফয়সাল বাড়ি থেকে বিধবার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তিন দিনও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাকশীমূল ইউনিয়ন বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতা জানান, আবুল কাসেমের বিরুদ্ধে আগেও মাদক কারবারিসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল। অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও ধরেননি কাসেম।

বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল করিম বলেন, ‘আমি প্রথম বিষয়টি জানতে পারলাম।’ বুড়িচং থানার ওসি এম লুৎফুর রহমান বলেন, ‘অভিযোগের কপি আমার হাতে পৌঁছেনি। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তানভীর হোসেন বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।’

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম