Logo
Logo
×
   

Advertisement

সারাদেশ

কারাগারের চার দেয়ালে ৬২ শিশুর শৈশব

Advertisement

Icon

মোহাম্মদ মোরশেদ আলম, গাজীপুর

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

কারাগারের চার দেয়ালে ৬২ শিশুর শৈশব

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার

Advertisement

কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার দেশের একমাত্র বিশেষায়িত ও প্রথম পূর্ণাঙ্গ নারী কারাগার। সাধারণ বন্দিদের পাশাপাশি বন্দি মায়েরা তাদের ছোট সন্তানদের সঙ্গে রাখতে পারেন।

বর্তমানে ওই কারাগারের চার দেয়ালের মধ্যে বেড়ে উঠছে ৬২ শিশু। এর মধ্যে ২৭ জন ছেলে শিশু ও ৩৫ জন মেয়ে শিশু। এসব শিশুর জন্য রয়েছে পরিচর্যা কেন্দ্র ও শ্রেণিকক্ষ। 

কারাসূত্রে জানা যায়, মোট ৬৩ শিশু ছিল কারাগারে। তবে গত মঙ্গলবার ফেনীর সোনাগাজীতে আলোচিত নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মায়ের সঙ্গে সাত বছর কারাবন্দি জীবন কাটিয়ে মুক্তি পেয়েছে মোবাশ্বেরা খানম রাথী। ফলে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে ৬২ জন শিশু।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় ২০১৯ সালে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন কামরুন্নাহার মনি। কারাগারেই মোবাশ্বেরা খানম রাথী নামে কন্যাসন্তান জন্ম দেন তিনি। মায়ের পেটে থেকেই কারাবন্দি জীবন শুরু তার। দীর্ঘ সাত বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের।

মুক্তিপ্রাপ্ত কামরুন্নাহার মনি বলেন, আমার বাচ্চাকে ক্লাস টুয়ের বই পড়াচ্ছি। কুরআন পড়ানো শিখাইছি। আমার মেয়েকে কুরআনের শেষের এক পাড়া মুখস্থ করাইছি। মা হিসেবে আমার দায়িত্ব কারাগারের ভেতর থেকে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। পায়ের মোজা দিয়ে মেয়েকে পুতুল বানিয়ে দিয়েছি। কারণ কোনো কিছু দেওয়ার সামর্থ্য আমার ছিল না। সেই পুতুল দিয়ে মেয়ে খেলা করত। জামা কেটে স্কুলব্যাগ বানিয়ে দিয়েছি। সেই ব্যাগ নিয়ে সে স্কুলে যেত।

কাশিমপুর মহিলা কারাসূত্রে জানা যায়, কাশিমপুর মহিলা কারাগারে ধারণক্ষমতা ২১২ জনের। বর্তমানে সাড়ে ৭শ জনের বেশি বন্দি রয়েছেন। বন্দি নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যা মামালার আসামি। মাদক মামলা ও সাধারণ মামালার বন্দিরাও রয়েছেন। এছাড়াও মৃত্যুদণ্ডের কয়েদি রয়েছেন।

কলমিলতা ভবনে সাধারণ বন্দি ও মাধবীলতা ভবনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা থাকেন। এসব বন্দির মধ্যে অর্ধশতাধিক মায়েদের সঙ্গে চার দেয়ালে শৈশব কাটছে ৬২ জন শিশুর। তবে ধারণক্ষমতার থেকে বেশি বন্দি থাকায় শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশ কিছুটা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

শিশুদের পরিচর্যা ও সুস্থ বিকাশের জন্য রয়েছে একতলা একটি ডে কেয়ার সেন্টার। এই কেন্দ্রটিতে একটি ছোট খেলার মাঠ, শ্রেণিকক্ষ, লাইব্রেরি এবং খেলাধুলার নানা সরঞ্জাম রয়েছে। এখানে শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষা ও বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়। ডে কেয়ার সেন্টারের জন্য শিক্ষক রয়েছেন। তিন বছরের বেশি বয়সি শিশুদের অক্ষরজ্ঞান ও প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হয়ে থাকে। পড়াশোনার পাশাপাশি নৃত্য, গান ও চিত্রাঙ্কনও শেখানো হয়। 

কাশিমপুর মহিলা কারাগারের জেলার মোছা. আলিভা শারমিন বলেন, আমাদের কারাগারে শিশু রয়েছে ৬২ জন। এসব শিশুর জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার রয়েছে। সেখানে শিক্ষক, আয়া সবাই রয়েছেন। তাদের খুবই যত্নসহকারে লালন-পালন করা হয়ে থাকে। 

কাশিমপুর কারাগারের অতিরিক্ত জেল সুপার মো. নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মায়ের সঙ্গে কারাগারে থাকা শিশুদের স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা বিবেচনা করে তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়। শিশুদের থাকা-খাওয়া, লেখাপড়া ও বিনোদনের পাশাপাশি ডে-কেয়ার ও স্কুলের ব্যবস্থাও রয়েছে। তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যেন কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি না হয়, সেই বিষয়েও কারা কর্তৃপক্ষ নজর রাখে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম