সাংবাদিক ফারুকের বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে জোড়া মামলা
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৫ পিএম
সিনিয়র সাংবাদিক ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক এ এইচ এম ফারুক।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঢাকায় কর্মরত সিনিয়র সাংবাদিক ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক গবেষক এ এইচ এম ফারুক (মো. আবুল হোসেন ফারুকের) বিরুদ্ধে খাগড়াছড়িতে জোড়া মামলা হয়েছে। মামলা দুটি ৩০ আগস্ট খাগড়াছড়ি সদর থানায় করা হলেও ১৩ সেপ্টেম্বর বিষয়টি জানাজানি হয়।
বিশেষ একটি প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলা গোপন রেখে সাংবাদিক ফারুককে গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্য এম এন আবছার একটি মামলা করেছেন। এ মামলায় ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তার বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৭।
তথ্যপ্রযুক্তি আইনে আরেকটি মামলা করেছেন খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা ভিশন টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি এইচ এম প্রফুল্ল ওরফে প্রফুল্ল ময় দত্ত। মামলা নম্বর ১৮। এ মামলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মানহানিকর পোস্ট করার অভিযোগ করা হয়েছে।
সাংবাদিক এ এইচ এম ফারুক অপরাধবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) সদস্য এবং ঢাকাস্থ পার্বত্য চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি। এ ছাড়া তিনি খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক।
তিনি দৈনিক ইনকিলাব, দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলা টিভি, দৈনিক বাংলাদেশের খবর ও পরিবর্তন ডটকম এবং সর্বশেষ মানবাধিকার খবরের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি ফ্রিল্যান্সার হিসেবে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপসম্পাদকীয় ও কলাম লেখেন।
অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিক ফারুক বলেন, তিনি দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সাংবাদিকতা করছেন। বর্তমানে তিনি বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা, রোহিঙ্গা সংকট এবং ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত নিয়ে গবেষণা করছেন। নিয়মিত বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে উপসম্পাদকীয় লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিয়ে আলোচনা করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করেন।
খাগড়াছড়ির স্থায়ী বাসিন্দা ফারুক ২০০৯ সাল থেকে ঢাকায় কর্মরত। ২০০৯ ও ২০১১ সালেও তিনি হামলা-মামলার শিকার হয়েছিলেন বলে জানান।
নিজের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক পদেও আছি।’
স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সূত্রের বরাতে ফারুক বলেন, সম্প্রতি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের বঞ্চিত করে রহস্যজনকভাবে দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, এমন একাধিক ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান ও সদস্য করা হয়েছে। বিশেষ করে পরিষদের তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী হিসেবে কর্মরত ম্রাসাথোয়াই মারমাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিয়ে চেয়ারম্যান পদে বসানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, বিগত সময়ে ম্রাসাথোয়াই ভালোভাবেই চাকরি করেছেন। অথচ ১৭ বছর জেল-জুলুমের শিকার বিএনপির নেতাদের মধ্য থেকেই এই পদে কাউকে দেওয়া উচিত ছিল।
তিনি আরও বলেন, ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং আওয়ামী লীগের কমিটিতে ছিলেন, এমন একাধিক ব্যক্তিকেও জেলা পরিষদের সদস্য করা হয়েছে। এসব বিষয়ে লেখালেখি ও প্রতিবাদ করায় তিনি দলের অভ্যন্তরীণ কিছু গ্রুপিংয়েরও শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন।
ফারুকের অভিযোগ, দল ব্যবহার করে অপকর্মে লিপ্ত কতিপয় প্রভাবশালী নেতাও তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘শুনেছি, তারা আমাকে মামলা-হামলা করে হয়রানি-নির্যাতনের পথ বেছে নিচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘তারই অংশ হিসেবে আমার রাজনৈতিক সহকর্মী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। পাশাপাশি পেশাগত সহকর্মী প্রফুল্ল তথ্যপ্রযুক্তি ও মানহানি মামলা করেছেন।’
ফারুক বলেন, ‘আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার সবার আছে। আইনগতভাবেই এসব মামলা মোকাবিলা করা হবে। তবে তিনি (এম এন আবছার) গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকায় দলের প্রভাব বিস্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছেন। আমার এবং পরিবারের ফোন ট্র্যাকিং করা হচ্ছে।’
