নাসিক নির্বাচন
অংশ নিতে পারলে আইভিই হতে পারেন গেম চেঞ্জার
Advertisement
আমির হুসাইন স্মিথ, নারায়ণগঞ্জ
প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নির্বাচনের দিন তারিখ ঠিক না হলেও তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। মেয়র পদে আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছেন জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই দলের মহানগর সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। নাসিকের বর্তমান প্রশাসক হতে পারেন বিএনপির প্রার্থী।
নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নিতে পারবে কিনা তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহল। তবে আওয়ামী লীগের সাবেক মেয়র নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলে হিসাব পালটে যেতে পারে। তবে সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন হলেই তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কেননা শেখ হাসিনার আমলে একতরফা নির্বাচনের ভয়ংকর রূপ জাতি দেখেছে। সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে কাজ করতে হবে-এমন প্রত্যাশা সবার।
তবে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশলে মাঠে সক্রিয় আছেন। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন গঠনের পর থেকে তিনটি নির্বাচনেই বিপুল ভোটের ব্যবধানের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেত্রী ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী বিজয়ী হন। তবে বিএনপি যদি এবার ঐক্যবদ্ধভাবে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে তবে বিজয় ছিনিয়ে নেওয়া সম্ভব। মেয়র পদে আটঘাট বেঁধেই মাঠে নামার ইঙ্গিত দিচ্ছেন জামায়াত, এনসিপি, খেলাফত মজলিসের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যেই দলের মহানগর সভাপতি মাওলানা আব্দুল জব্বারকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
নাসিকের বর্তমান প্রশাসক হতে পারেন বিএনপির প্রার্থী। তিনি ২০১৬ সালে বিএনপির প্রার্থী হিসাবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে বিএনপির আরও অনেকের নাম শোনা যাচ্ছে মেয়র পদে।
সূত্র জানায়, ২০১১ সালের ৩০ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম ওসমানকে (আনারস প্রতীক) লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হারান নাগরিক সমাজের প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। বিএনপির প্রার্থী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার ৭ ঘণ্টা আগে গভীর রাতে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
২০১৬ ও ২০২২ সালের নির্বাচনেও আইভী বড় ব্যবধানে বিজয়ী হন। ২০১৬ সালে বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন ৭০ হাজার ভোটে হারেন। ২০২২ সালের নির্বাচনে বিএনপির সিদ্ধান্ত অমান্য করে সিটি নির্বাচনে অংশ নেন তৎকালীন বিএনপির অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার। শেষ মুহূর্তে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণে ওই নির্বাচনে আইভী ৬৭ হাজার ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন।
এর আগে পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী নুরুল ইসলাম সর্দারকে পরাজিত করে আইভী প্রথম পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এ হিসাবে প্রায় টানা নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান, মেয়র এবং সিটি করপোরেশনের তিনবারের মেয়র হিসাবে প্রায় টানা ২১ বছর দায়িত্ব পালন করেন আইভী।
নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে কাজ করছেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও বর্তমান সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, বিএনপির অঙ্গসংগঠন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম সানি। এছাড়া বহিষ্কৃত বিএনপির সাবেক সংসদ-সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের নামও শোনা যাচ্ছে।
বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে আমাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মানুষকে সেবা দেওয়ার জন্য। সেবায় ব্যত্যয় ঘটলে বা কাজ করতে ব্যর্থ হলে নতুন মুখ আসতে পারে। আগামী দু-তিন মাসের মধ্যে মানুষের সেবার গতি এবং সমস্যা সমাধানে সিটি করপোরেশনের আরও কিছু কাজ দৃশ্যমান হবে। মনোনয়নের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবে।
অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ যুগান্তরকে বলেন, মেয়র পদে দলের সমর্থন চাইব। কারণ আমি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে এই দলের হয়ে কাজ করে আসছি। দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করেছি। দুঃসময়ে হাল ধরে দলকে সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করেছি। আশা করি আমার ত্যাগ ও সাংগঠনিক দক্ষতা বিবেচনা করে সিটি নির্বাচনে আমাকে মূল্যায়ন করা হবে।
জামায়াতের একক প্রার্থী হিসাবে দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান নারায়ণগঞ্জ মহানগর জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুল জব্বারের নাম ঘোষণা করেছেন মেয়র প্রার্থী হিসাবে।
এ ব্যাপারে আব্দুল জব্বার যুগান্তরকে বলেন, নগরবাসীর প্রধান সমস্যা যানজট, জলাবদ্ধতা এবং মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি। এসব সমস্যা যারা সমাধান করতে পারবেন নগরবাসী তাকেই মেয়র হিসাবে দেখতে চান। আমি দীর্ঘদিন ধরে মানুষের জন্য কাজ করছি। বিগত সময়ে আইভী ও শামীম ওসমান কাজের চেয়ে বেশি আওয়াজ তুলেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছু করেননি। একে অপরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক মন্তব্যের কারণে আলোচনায় ছিলেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে প্রার্থী হিসাবে দুজনের নাম শোনা যাচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী, নারায়ণগঞ্জ জেলা আহ্বায়ক যুবাইর সরদার। নারায়ণগঞ্জ মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক শওকত আলী যুগান্তরকে বলেন, সিটি নির্বাচনের প্রার্থী হওয়ার জন্য প্রায় দুই বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছি। দল থেকে আমাকে আনঅফিশিয়ালি কাজ করে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে। সে অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। সিটি নির্বাচনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল অংশ নিতে পারবে কিনা সেটি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। তবে একজন নাগরিক হিসাবে সিটির বাসিন্দা যে কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। বাংলাদেশের আইনে বাধা নেই।
জেলা এনসিপির আহ্বায়ক যুবাইর সরদার যুগান্তরকে বলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আয়তন বাড়ানো হচ্ছে। নির্বাচনের আগে যদি ফতুল্লা, এনায়েতনগর ও কুতুবপুর ইউনিয়ন সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত হয় তবে আমি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন চাইব দলের কাছে। অন্যদিকে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী হিসাবে এবিএম সিরাজুল মামুন এবং ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মাওলানা মাছুম বিল্লার নাম মেয়র পদে শোনা যাচ্ছে।
এ ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক আন্দোলনের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি বলেন, বিগত শেখ হাসিনার সরকারের আমলে যেভাবে জাতীয় ও রাজনৈতিক দলগুলোতে নানা কৌশল অবলম্বন করে নির্বাচনের বাইরে রেখেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বাইরে রাখার কারণেই একটি ভয়ংকর রূপ আমরা দেখেছি গত আড়াই বছর ধরে। আমি মনে করি বর্তমান সরকার এ থেকে শিক্ষা নিয়ে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
