পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়ায় স্কুলের মাঠে কলাগাছ লাগালেন দাতা সদস্য
Advertisement
পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
রাজশাহীর পুঠিয়ায় ছেলের বউকে চাকরি না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন করার অভিযোগ বিদ্যালয়ের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক দাতা সদস্য।
একই সঙ্গে শিক্ষকদের কার্যালয়ের তালার ওপর নতুন করে তালা এবং বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে এ ঘটনা ঘটে।
বিদ্যালয়ের সাবেক দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে এসব করেন বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ নামে যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশনায় প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল নাম নির্ধারণ করা হয়। সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে ওই সময়ের দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই নামটির প্রস্তাব করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি এখনো এমপিওভুক্ত হয়নি।
শনিবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দেওয়া হয়েছে। মাঠের বিভিন্ন স্থানে কলাগাছ লাগানো হয়েছে। শিক্ষকদের কার্যালয়ের দরজায় থাকা তালার ওপরও আরেকটি তালা ঝুলছে।
স্থানীয় দোকানি লাল মোহাম্মদ বলেন, আগে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বেশি ছিল। মামলা-মোকাদ্দমার কারণে শিক্ষার্থী কমেছে। এরপর নিয়মিত ক্লাস হচ্ছে না। হঠাৎ করে আজাদ আলী এসে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক ঘিরে দেওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়েছেন।
আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য ছিলেন। তার জমিতে টেকনিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করে সেখানে তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ হয়নি এবং ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও কলাগাছ লাগিয়েছেন।
তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন, আজাদ আলী নিঃশর্তভাবে জমি দান করেছিলেন। পরে জমি রেজিস্ট্রির সময় তার ছেলে ও ছেলের বউকে প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়ার দাবি ওঠে। কমিটি তার দাবিতে তখন সম্মতি দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়।
তিনি বলেন, কলেজ শাখা চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। ২০২২ সালে চাকরিরত অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় স্ত্রীকে মাধ্যমিক শাখায় অফিস সহকারী পদে নিয়োগের দাবি করেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয় এবং এ বিষয়ে রেজুলেশন রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আজাদ আলী রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান হয়নি। মামলাটি বর্তমানে চলমান। এর মধ্যেই তিনি বিদ্যালয়ে তালা ও মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও ভালুকগাছি ইউনিয়ন বিএনপির নেতা তৌহিদুল ইসলাম বলেন, একটি প্রতিষ্ঠান একদিনে দাঁড়ায় না। দাতা সদস্যের দাবি সঠিক নয়। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী আছে এবং নিয়মিত পাঠদান চলছে।
তিনি জানান, গত মাসের ১০ তারিখে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন দিয়েছে।
এ ব্যাপারে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, তিনি বিষয়টি অবগত হয়েছেন। বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন। পুঠিয়ায় ফিরে বিদ্যালয়টি চালু করার ব্যবস্থা করবেন।
তিনি বলেন, পেছনে যে ঘটনা থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কেউ বন্ধ করতে পারবেন না।
