‘ঘুসের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি ঘুস খাওয়ার জন্যই’
Advertisement
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
বক্তব্য দিচ্ছেন অভিযুক্ত চুনারুঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইলিয়াস। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইলিয়াসের বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের নামে ঘুস দাবি, ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তে গিয়ে প্রকাশ্যে ঘুস গ্রহণকে যৌক্তিক দাবি করে তার দেওয়া বক্তব্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
চুনারুঘাট উপজেলার ৯নং রানীগাঁও ইউনিয়নের রানীগাঁও বাজারে সম্প্রতি এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ব্যবসায়ী নোমান মিয়ার করা একটি মামলার তদন্তে সেখানে যান এএসআই ইলিয়াস। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে ঘুস প্রসঙ্গে তাকে কথা বলতে শোনা যায়। পরে উপস্থিত এক ব্যক্তি মোবাইলে তার বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এএসআই ইলিয়াসকে বলতে শোনা যায়, ‘কিছু রটে দেখেই তো কিছু বটে! আমি যদি বলি পুলিশে চাকরি করি কিন্তু ঘুস খাই না, তবে কি আমি বায়তুল মোকাররমের ইমাম সাহেব হবো? আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুসের টাকা দিয়ে, ঘুস খাওয়ার জন্যই।’
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের একজন সদস্যের এমন বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বক্তব্যের সত্যতা ও প্রেক্ষাপট জানতে এএসআই ইলিয়াসের মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিযোগ ও ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যের বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ওসি সাইফুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি মাত্রই জেনেছি। খোঁজ নিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকেও অবগত করব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মামলা তদন্তের নামে ঘুস দাবি এবং ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ এএসআই ইলিয়াসের বিরুদ্ধে আগেও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা- তা জানা যায়নি।
এদিকে পুলিশের একজন সদস্যের প্রকাশ্যে ঘুস নিয়ে এমন বক্তব্যের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

