সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালাতেন, সেই প্রধান শিক্ষক পেলেন সম্মাননা
Advertisement
বান্দরবান প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৯ পিএম
সহকর্মীদের বেতন জোগাতে নৌকা চালানো সেই প্রধান শিক্ষক পেলেন সম্মাননা
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সহকর্মীদের বেতন জোগাতে ছুটির দিনে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালানো বান্দরবানের থানচির তিন্দু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পেয়েছেন।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার হাতে এ সম্মাননা তুলে দেন।
সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সারা দেশের বাছাইকৃত ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হয়। বিশেষ ক্যাটাগরিতে স্থান পাওয়া সাতজন শিক্ষকের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বামং খিয়াং মিংলেন।
সম্মাননা হিসেবে প্রত্যেক শিক্ষককে দুই লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সনদপত্র দেওয়া হয়।
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ঘেরা থানচি উপজেলার তিন্দু এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়টির অধিকাংশ শিক্ষার্থীই প্রান্তিক ও নিম্নআয়ের পরিবারের সন্তান। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৫৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বেতন দিতে পারত না। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র সংকট চলছিল।
এমন পরিস্থিতিতে সহকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে নিজেই বিকল্প পথ বেছে নেন প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। ছুটির দিনগুলোতে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী নৌপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালিয়ে পর্যটক ও সাধারণ যাত্রী পরিবহণ শুরু করেন তিনি। সেখান থেকে উপার্জিত আয়ের সিংহভাগই তিনি ব্যয় করতেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীদের বেতন মেটাতে। চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসেই নৌকা চালিয়ে আয় করা প্রায় ৪০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকাই তিনি সহকর্মীদের হাতে তুলে দেন।
সম্প্রতি প্রধান শিক্ষকের এমন ত্যাগ ও ব্যতিক্রমী সংগ্রামের খবর গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৮ জুন জাতীয় সংসদে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রতিষ্ঠানটিকে সরকারিকরণ করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ১৩ জুলাই থেকে প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক নাম হয়েছে ‘তিন্দু সরকারি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়’।
