২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে চাঙ্গা ইলিশের বাজার
Advertisement
মো. জসিম জনি, লালমোহন (ভোলা)
প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ভোলার লালমোহনসহ উপকূলীয় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশ। শেষ সময়ে নদীতে ভালো মাছ পাওয়ায় জেলেদের মুখে যেমন হাসি ফুটেছে, তেমনই জমে উঠেছে স্থানীয় মাছের ঘাট ও বাজারগুলো।
আগামী ৮ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। এ সময় প্রজনন নিরাপদ রাখতে দেশের চিহ্নিত নদ-নদী ও মোহনায় ইলিশ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহণ ও মজুত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। ফলে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের আগেই পরিবারের জন্য ইলিশ কিনে রাখতে ঘাট ও বাজারগুলোতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক দিন ধরে মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ছে। ইলিশ নিয়ে ঘাটে একের পর এক ট্রলার ভিড়তেই হাঁকডাকে মুখরিত হয়ে উঠছে চারপাশ। জেলেদের পাশাপাশি পাইকার ও আড়তদারদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর কর্মচাঞ্চল্য।
ঘাট ও স্থানীয় বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, ১ কেজি বা তার বেশি ওজনের ইলিশ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে প্রায় দুই হাজার টাকার মধ্যে। ৫০০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মিলছে প্রতি কেজি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। দাম কিছুটা নাগালের মধ্যে থাকায় অনেকে একসঙ্গে একাধিক ইলিশ কিনে ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করছেন।
ক্রেতারা জানান, আর দুই দিন পরই বাজারে ইলিশের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। তাই শেষ মুহূর্তে কিছুটা সহনীয় দামে চাহিদামতো ইলিশ সংগ্রহ করে নিচ্ছেন তারা।
লালমোহনের নাজিরপুর মৎস্য ঘাটের আড়তদার আব্দুস শহীদ বলেন, নিষেধাজ্ঞা সামনে রেখে ক্রেতাদের বাড়তি চাপ রয়েছে। নদী থেকেও ভালো মাছ আসছে। সরবরাহ বাড়ায় এবং চাহিদা তুঙ্গে থাকায় বিক্রি জমে উঠেছে।
জেলেদের চোখেমুখে স্বস্তি থাকলেও সামনে দীর্ঘ ২২ দিন কর্মহীন থাকার দুশ্চিন্তাও রয়েছে। কয়েকজন জেলে জানান, শেষ সময়ে ভালো মাছ পেয়ে কিছু আয়-রোজগার হয়েছে, যা কিছুটা হলেও ধারদেনা শোধ করতে সাহায্য করবে। তবে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে সরকারি বরাদ্দের চাল ও সহায়তা দ্রুত এবং সঠিকভাবে না পেলে পরিবার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ জানান, মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতেই এ নিষেধাজ্ঞা। এ সময়ে ইলিশ অবাধে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে নদী ও বাজারে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে এবং নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের যৌথ অভিযান পরিচালিত হবে।
