মিথ্যা মামলা করায় স্বামী-স্ত্রীর ৩ বছরের কারাদণ্ড
Advertisement
ফরিদপুর ব্যুরো
প্রকাশ: ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে আদালতকে বিভ্রান্ত, মূল্যবান সময় নষ্ট এবং বিবাদীকে অযথা হয়রানির দায়ে মামলার বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী ১ নম্বর সাক্ষী মাসুদ বেপারীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার পরপরই এজলাসে উপস্থিত থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী-স্ত্রীকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে সাজা পরোয়ানামূলে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন একটি মামলায় বুধবার বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারী আদালতে সাক্ষ্য ও জবানবন্দি প্রদান করেন। পরবর্তীতে আসামিপক্ষের আইনজীবী তাদের বিশদ জেরা শুরু করেন।
জেরার একপর্যায়ে বাদী ও তার স্বামীর দেওয়া তথ্যে সুস্পষ্ট পরস্পরবিরোধী ও অসত্য বক্তব্য প্রকাশ পায়। তাদের সাক্ষ্য ও জেরার জবাব পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে আদালত নিশ্চিত হন যে, কোনো অপরাধ না ঘটা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত আক্রোশ ও বিবাদীকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এ মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছিল।
সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনায় মামলাটি সম্পূর্ণ বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী বাদী রিনা আক্তার ও তার স্বামী মাসুদ বেপারীকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া রতন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরপরাধ মানুষকে হয়রানি করার প্রবণতা রোধে আদালতের এ দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেবে।
