Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

‘ঘ্যানঘ্যান’ করায় শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন আকলিমা

Advertisement

Icon

গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ পিএম

‘ঘ্যানঘ্যান’ করায় শিশুকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেন আকলিমা

Advertisement

‘বাচ্চার জ্বালাতন ভালো লাগে না। সারাক্ষণ ঘ্যানঘ্যান করায় মেজাজ খিটখিটে থাকত’—এমন ক্ষোভ থেকেই ডিম খাওয়ানোর পর পানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে সতিনের আড়াই বছরের শিশু ওয়াক্কুরুনি ইসলামকে হত্যা করেছেন সৎমা আকলিমা বেগম।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ময়মনসিংহের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন তিনি।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বীরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বৃহস্পতিবার এ ঘটনায় মৃত শিশুর মা শেফালী বেগম বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে শিশুর বাবা আব্দুল কাদির ও সৎমা আকলিমা বেগমকে গ্রেফতার করে।

শুক্রবার তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে সৎমা আকলিমা শিশুটিকে সিদ্ধ ডিম ও পানি খাওয়ায়। এরপর তাকে গোসল করিয়ে ঘুম পাড়ানোর কথা বলে বিছানায় শুইয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে কাশতে শুরু করলে দাদি আছিয়া আক্তার কাশির শব্দ শুনে ঘরে ছুটে যান এবং শিশুটিকে কোলে করে বাইরে নিয়ে আসেন। এ সময় শিশুটির মুখ থেকে তীব্র বিষের গন্ধ বের হতে থাকে। চাচারা দ্রুত বিষয়টি বাবা আব্দুল কাদিরকে জানান। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

মৃত শিশুর মা শেফালী বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, আব্দুল কাদিরের সঙ্গে ১৫ বছর আগে আমার বিয়ে হয়। তার আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে আমি সংসার সাজিয়েছিলাম। আমাদের দুটি ছেলেসন্তান রয়েছে; কিন্তু বছরখানেক আগে কাদির আকলিমার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে আমাকে তালাক দেয়। দেনা শোধ করতে আমি ঢাকায় গিয়ে পোশাক কারখানায় চাকরি নিই। তালাকের এক সপ্তাহ পরই সে দ্বিতীয় বিয়ে করে। গত মঙ্গলবার আমার অবুঝ শিশুটিকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে কাদির ও তার বর্তমান স্ত্রী। আমাকে না জানিয়ে সৎমাকে আসল মা সাজিয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ এনে গোপনে দাফনের চেষ্টাও করেছিল তারা। পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে আমাকে জানানো হয়। আমি আমার নিষ্পাপ সন্তান হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

গ্রেফতার বাবা আব্দুল কাদির অবশ্য দাবি করেন, ঘটনার দিন আমি ছেলেকে সুস্থ দেখে এবং তার সঙ্গে খেলাধুলা করে খড় আনতে ঢালিয়া বিলে যাই। বিলে থাকা অবস্থায় খবর পাই ছেলে বিষ খেয়েছে। এরপর দ্রুত ফিরে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই, সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

শিশুর দাদি আছিয়া বেগম বলেন, নাতির তীব্র কাশি শুনে ঘরে ঢুকে দেখি সৎমা তাকে নিয়ে শুয়ে আছে। টেনে বাইরে এনে দেখি মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছে।

শিশুর বড় চাচা মতিউর রহমান বলেন, কাদিরের প্রথম স্ত্রী অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। কাদির পরকীয়ায় জড়ালে আমরা তাকে অনেক ফেরানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হই। সে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আকলিমাকে বিয়ে করে। ঘটনার দিন বাড়ির সামনের মসজিদে নামাজ পড়ার সময় চিৎকার শুনে এসে দেখি ভাতিজার মুখ দিয়ে বিষের গন্ধ বের হচ্ছে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

তাজমীন হত্যাকাণ্ড: সুমনের দেওয়া তথ্যে মোবাইল উদ্ধার

তাজমীন হত্যাকাণ্ড: সুমনের দেওয়া তথ্যে মোবাইল উদ্ধার

পদ্মার দুর্গম চরে দিনভর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেফতার ২৫

পদ্মার দুর্গম চরে দিনভর পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেফতার ২৫

এমপি নায়াব ইউসুফ ফরিদপুরে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সহ্য করা হবে না

ফরিদপুরে সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা সহ্য করা হবে না

রাজশাহীর চরে বন্দুক-এয়ারগানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ১

রাজশাহীর চরে বন্দুক-এয়ারগানসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার, গ্রেফতার ১

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম