হত্যা মামলা তুলে নিতে হুমকি, প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
Advertisement
নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৭ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার খালিয়াজুরিতে সংঘর্ষে যুবক নিহত হওয়ার ঘটনায় করা হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আসামিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার লেপসিয়া বাজার জামে মসজিদ লঞ্চঘাট এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
নিহত যুবকের নাম মো. শাহ আলমগীর (২২)। তিনি উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামের নুরুল হক মিয়ার ছেলে।
রোববার দুপুর ১২টার দিকে শুরু হওয়া ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সদস্য সানোয়ার ফকির। নিহতের চাচা ছাদেক আহমদের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন শাহ আলমগীরের স্ত্রী জেসমিন আক্তার, বাবা নুরুল হক, চাকুয়া ইউনিয়ন ওলামা দলের সাধারণ সম্পাদক মিস্টু মিয়া, প্রতিবেশী জহিরুল ইসলাম ও রোমান ফকির, উপজেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক লিগেল মিয়া, সদস্য মো. কবীর হোসেন এবং ওয়ার্ড শ্রমিক দলের সভাপতি কাউসার আহমেদ প্রমুখ।
স্থানীয় বাসিন্দা, মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জেরে গত ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় রানীচাপুর গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। একপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন চাকুয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লিগেল মিয়া। অন্যপক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান। পরে স্থানীয় লোকজন দুই পক্ষকে থামিয়ে দেন।
পর দিন সকালে আবদুর রহমানের নেতৃত্বে তার লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লিগেল মিয়ার চাচাতো ভাই শাহ আলমগীরের বাড়িতে হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে খালিয়াজুরি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে শাহ আলমগীরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় মামলা করে। লিগেল মিয়ার পক্ষ থেকে তার চাচাতো ভাই মিস্টু মিয়া বাদী হয়ে আবদুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। পরে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়। অন্যদিকে আবদুর রহমানের পক্ষ থেকে তার ছেলে রুবেল মিয়া বাদী হয়ে শাহ আলমগীরের চাচাতো ভাই শফিকুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে ৪৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
পুলিশ আবদুল জব্বার, আনোয়ার হোসেন, শফিকুল ইসলাম, আকাশ মিয়া ও রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করে। এ ছাড়া অন্য আসামিদের মধ্যে সবুজ ও নুর আলম ছাড়া বাকিরা আদালতে হাজিরা দিতে গেলে তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
মানববন্ধনে নিহত শাহ আলমগীরের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন, মামলার দুই আসামি নুর আলম ও সবুজ বাইরে থাকায় তাদেরসহ অন্য আসামিদের স্বজনরা মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষের লোকজনকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিচ্ছেন।
শাহ আলমগীরের বাবা নুরুল হক বলেন, ‘আসামিপক্ষের লোকজন আমাদের মামলা তুলে নিতে অব্যাহতভাবে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। আমি তো আমার ছেলেকে আর ফিরে পাব না। তবে যারা আমার ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।’
নিহতের চাচা ছাদেক আহমদ অভিযোগ করেন, আসামি নুর আলমের বাবা ফিরোজ আলী, আসামি মামুনের বাবা হারিস মিয়াসহ অন্য আসামিদের স্বজনরা মামলা তুলে নিতে তাদের হুমকি দিচ্ছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ফিরোজ আলীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
খালিয়াজুরি থানার ওসি মো. নাসিরুদ্দিন বলেন, হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদীপক্ষকে হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
