কাগজে লিখে দিলে তবেই ক্লাশ, শিক্ষকের বিরুদ্ধে নারী সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ
Advertisement
চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪১ পিএম
সম্প্রতি ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লাশ চলাকালে অফিসের টেবিলে বসে তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার ছয়শ্রী গ্রামের আবুল হাশিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সালেহ আহম্মদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা ও নারী সহকর্মীদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্কুল চলাকালে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান না করে অফিসকক্ষে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন এই শিক্ষক। সম্প্রতি ধারণ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ক্লাশ চলাকালে অফিসের টেবিলে বসে তিনি মোবাইল ফোনে ভিডিও করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, সালেহ আহম্মদকে মৌখিকভাবে কিছু বললে তিনি কর্ণপাত করেন না। তাকে কাগজে লিখে আবেদন আকারে দিলে তারপর তিনি ক্লাশে যান। এমন আচরণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডেইজি রানী দাস বলেন, তিনি সব সময় আমাদের নারীদের ভিডিও করেন। আমার একজন সহকারী ম্যাডামের সঙ্গে শ্লীলতাহানিরও চেষ্টা করেন। স্কুলের পাশে বাড়ি হওয়ায় সব সময় আমাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। সময়মতো স্কুলে আসেন না এবং ক্লাশ নিতেও আগ্রহী নন। কোনো কিছু বললেই তিনি কাগজে লিখে দিতে বলেন। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে শাস্তিস্বরূপ অন্য স্কুলে ডেপুটেশনে দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জয় কুমার হাজরা বলেন, সালেহ আহম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা চলমান আছে। আমরা তাকে উক্ত বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে অন্য স্কুলে ডেপুটেশনে দিয়েছি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, শ্লীলতাহানির মতো কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সেই শিক্ষিকা যদি মামলা করেন, অবশ্যই উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।
অভিযুক্ত সালেহ আহম্মদের সঙ্গে বারবার কল দেওয়ার পরও তিনি কল রিসিভ করেননি।

