বাড়িওয়ালার বাসায় হামলা-ভাঙচুর, দুই শিক্ষিকা বরখাস্ত
Advertisement
মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪২ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নেত্রকোনার মদনে বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে মালিকের বাসায় হামলার ঘটনায় দুই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
বরখাস্তের বিষয়টি বুধবার নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম।
বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষিকা হলেন—পশ্চিম জাহাঙ্গীরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লায়লা আক্তার লাবনী ও ফচিকা মহিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা আফরুজা আক্তার স্মৃতি।
জানা যায়, জাহাঙ্গীরপুর কোর্ট বিল্ডিং এলাকায় প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ ওরফে রুবেলের স্ত্রী শিক্ষিকা নুসরাত জাহান ও তার মা রোকেয়া আক্তার থাকেন। বৃদ্ধা মা ক্যানসার আক্রান্ত হওয়ায় স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে প্রতিদিন তাকে দেখে আসেন নুসরাত। রোববার (৫ অক্টোবর) বিকালে বাসায় গিয়ে তিনি দেখেন, ভাড়াটিয়া স্কুলশিক্ষিকা হাফছা আক্তারকে প্রতিবেশী স্কুলশিক্ষিকা আফরোজা আক্তার স্মৃতি, তার বোন শিক্ষিকা লায়লা আক্তার লাবনী, মা মিলন আক্তার ও বোন মিতালী আক্তার বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে মারধর করছেন।
এ সময় শিক্ষিকা নুসরাত জাহান ও তার মা রোকেয়া আক্তার বাধা দিলে তাদেরও মারধর করা হয়। মারধরের শিকার হন সেখানে থাকা অপর শিক্ষিকা দীনা আক্তারও। একপর্যায়ে ক্যানসার আক্রান্ত বৃদ্ধা রোকেয়া আক্তারকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে তার হাত ভেঙে যায়।
এ ঘটনায় শিক্ষিকা নুসরাত জাহানের স্বামী প্রভাষক গিয়াস মাহমুদ রুবেল পরদিন সোমবার (৬ অক্টোবর) রাতে মদন থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় দুই শিক্ষিকা ও তাদের মাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম অভিযুক্ত দুই স্কুলশিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, জেলা অফিস হয়তো আদেশটি ই-মেইলে পাঠিয়েছে, এখনো মেইল দেখা হয়নি। দেখে বিস্তারিত বলতে পারব।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহিদুল আজম জানান, মারামারির ঘটনায় দুই শিক্ষিকা জেলহাজতে থাকায় তাদের মঙ্গলবার সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের চিঠি মদন উপজেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে। তারা যেদিন থেকে জেলহাজতে গেছেন, সেদিন থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে।
