কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: নিহত ৬ পর্যটকের পরিচয় শনাক্ত
Advertisement
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৮ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় পর্যটকের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ঢাকার চার নারী, চুয়াডাঙ্গার এক নারী ও পাঁচ বছর বয়সি এক শিশু রয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ আরও পাঁচজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
নিহতরা হলেন- ঢাকার বনশ্রীর ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), খিলগাঁওয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও নাফিসতা মীম (২৭)। অন্য দুজন হলেন চুয়াডাঙ্গার ফারিহা কবির (৩৩) ও পাঁচ বছর বয়সি ফায়িজান আহম্মেদ।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করা হয়। প্রথমে ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। নিহত সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পেতে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
দগ্ধ পাঁচজন হাসপাতালে
অগ্নিকাণ্ডে আহত ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা হলেন- মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন (৩১), তার স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খান (২৯), মান্নান (৩৪), মেহেরুন্নেসা (৩০), মাসুদ (৩০) ও সামিদা (৩২)। তাদের মধ্যে পাঁচজনের শরীর পুড়ে গেছে এবং একজন পড়ে গিয়ে আহত হন।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা সবুক্তগীন মাহমুদ সোহেল জানান, দগ্ধ পাঁচজনের শরীরের প্রায় ৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অপর আহত ব্যক্তি পড়ে গিয়ে আঘাত পেয়েছিলেন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
রিসোর্টে ছিলেন ১৬ পর্যটক
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কাঠের তৈরি টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে মোট নয়টি কক্ষ ছিল। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাতে তিনটি কক্ষের পর্যটকেরা চেকআউট করে চলে যান। বাকি ছয়টি কক্ষে ১৬ জন পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন শনিবার সকালে বিভিন্ন কাজে রিসোর্টের বাইরে ছিলেন।
সকালে আগুন লাগার পর রিসোর্টে থাকা পর্যটকদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হয়। তবে রিসোর্টে অবস্থানরত সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
শনিবার সকাল ৭টার দিকে রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। বেলা ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নেভানো হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসীম।
ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য জানান, ঘটনাস্থল থেকে প্রথমে পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা সবাই পর্যটক বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। উখিয়া থানার ওসি আতিকুর রহমান বলেন, কী কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
