ছুরি-রামদার আঘাতকে ভোঁতা অস্ত্র দেখানোর অভিযোগ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে
Advertisement
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ছুরি, চাপাতি ও রামদা দিয়ে রাজু আহমেদ নামে এক ব্যবসায়ীকে কোপানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে চিকিৎসকের দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টে আঘাতের ধরন ও অস্ত্রের বিবরণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী। তার অভিযোগ, প্রতিপক্ষের প্রভাবে চিকিৎসক মনগড়া মেডিকেল রিপোর্ট দিয়েছেন এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতকে ভোঁতা অস্ত্রের আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজু আহমেদ রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার বাগানপাড়া মহল্লার বাসিন্দা। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। নগরের লক্ষ্মীপুর মোড়ে তার একটি আবাসিক হোটেল রয়েছে। সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে গত ২৭ থেকে ৩০ জুলাই পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় মামলা করেছেন রাজু।
পরে রামেক হাসপাতালের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. সায়ের মোহাম্মদ রিয়াদ মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে রাজুর মেডিকেল সনদ দেন। ওই সনদে শরীরের বিভিন্ন স্থানের আঘাতের বিবরণ ও হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের ধরন যথাযথভাবে উল্লেখ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন রাজু।
এ বিষয়ে গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পি কে এম মাসুদ-উল ইসলামের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি।
অভিযোগে রাজু উল্লেখ করেন, গত জুলাই মাসে চাপাতি, রামদা, ছুরি ও চাকু নিয়ে তার ওপর হামলা চালান সন্ত্রাসীরা। এতে তার মাথা ও নিতম্বে গুরুতর জখম হয়। এ ছাড়া লোহার পাইপ দিয়ে তার এক চোখে আঘাত করা হয়। এতে চোখের চারপাশে কালশিরা পড়ে। ঘটনার পর তাকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং ৩০ জুলাই পর্যন্ত সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
রাজুর দাবি, শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর ক্ষত থাকলেও হাসপাতাল থেকে দেওয়া ছাড়পত্রে শারীরিক হামলার কারণে মাথায় সামান্য আঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়। সহকারী রেজিস্ট্রারের দেওয়া মেডিকেল রিপোর্টেও আঘাতের প্রকৃত ধরন ও হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিবরণ আড়াল করা হয়েছে।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, ছুরি, রামদা ও চাপাতির আঘাতে তার মাথায় পাঁচটি, চোখের ওপর চারটি এবং বাম নিতম্বের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি, চারটি, তিনটি ও চারটি করে সেলাই দিতে হয়েছিল। অথচ মেডিকেল রিপোর্টে শুধু মাথার চামড়া ও নিতম্বের একটি স্থানের আঘাতের বিবরণ দেওয়া হয়েছে। আঘাতগুলোকে ‘কাটা ক্ষতের মতো দেখতে’ বলে উল্লেখ করে চিকিৎসক সেগুলোকে সাধারণ আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি আঘাতের কারণ হিসেবে ভোঁতা বস্তুর কথা লিখেছেন।
রাজু অভিযোগে বলেন, রামদা, ছুরি ও চাকু দিয়ে আমাকে আঘাত করা হয়েছিল। ছুরি-চাকু কীভাবে ভোঁতা বস্তু হলো, তা আমার কাছে বোধগম্য নয়। মামলা করার পর প্রতিপক্ষরা নানাভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল। তাদের প্রভাবে চিকিৎসক আমার মেডিকেল রিপোর্টে আঘাতের ধরন ও ব্যবহৃত অস্ত্রের প্রকৃত বিবরণ উল্লেখ করেননি বলে আমার মনে হচ্ছে।
রাজু আরও বলেন, মনগড়া রিপোর্ট দেওয়ার কারণে আসামিরা সহজেই জামিন পেয়ে যাবেন। এতে আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছি। প্রতিপক্ষরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় চিকিৎসককে প্রভাবিত করেছেন বলে শুনেছি।
নিজের শরীরের আঘাত পরীক্ষা করে প্রকৃত মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার জন্য হাসপাতাল পরিচালকের কাছে আবেদন জানিয়েছেন রাজু। একই সঙ্গে আঘাতের ধরন ও হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের বিবরণ আড়াল করার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, রামদা-চাপাতির উলটো দিক দিয়ে আঘাত করা হলেও ভোঁতা অস্ত্র লেখা হতে পারে। কী কারণে চিকিৎসক এটি লিখেছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে এ ধরনের অভিযোগ থাকলে আবার মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে। জরুরি বিভাগ ও ওয়ার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখে নতুন করে রিপোর্ট দেওয়া হবে।

-6ad4b741cad5a.jpg)