নিলামের টাকা বকেয়া রেখেই ভবনের মালামাল সরানোর অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে
Advertisement
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
গয়ড়া তেঁতুলীয়া ডি. এম. ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার একটি পরিত্যক্ত ভবন উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নওগাঁর বদলগাছীতে মাদ্রাসার পরিত্যক্ত ভবন নিলামে নিয়ে নির্ধারিত মূল্য পুরোপুরি পরিশোধ না করেই মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। নিলামের ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার মধ্যে ৩০ হাজার টাকা বকেয়া রেখেছেন কোলা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক জামিল হোসেন।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি করে গঠিত ১১ সদস্যের কমিটির মাধ্যমে বদলগাছী উপজেলার গয়ড়া তেঁতুলীয়া ডি. এম. ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার একটি পরিত্যক্ত ভবন উন্মুক্ত নিলামে তোলা হয়। এতে জয়পুরহাটের ব্যবসায়ী আতাউর রহমান ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা দর দেন। পরে জামিল হোসেন ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা দর হাঁকালে তার দর সর্বোচ্চ বিবেচিত হয়। নিলাম কমিটি তার কাছে ভবনটি বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, নিলামের শর্ত অনুযায়ী পুরো টাকা পরিশোধের পর মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কথা থাকলেও জামিল হোসেন দুই কিস্তিতে ১ লাখ টাকা দিয়ে তা নিয়ে যান। বাকি ৩০ হাজার টাকা পরিশোধের জন্য একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও তিনি তা দেননি।
নিলাম কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধিদের অভিযোগ, বকেয়া টাকা চাইতে গিয়ে তারা বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে টাকা চাইতেও তারা সাহস পাচ্ছেন না।
তবে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামিল হোসেন। তিনি বলেন, আমি ১ লাখ টাকা জমা দিয়ে মালামাল এনেছি। বাকি ৩০ হাজার টাকার জন্য দুটি দেয়ালের নিচের অংশ রেখে এসেছি। সেগুলো বাদ দিলে হয়তো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা হিসাব হবে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ লুৎফর রহমান বলেন, জামিল হোসেন ১ লাখ টাকা দিয়ে ভবনের মালামাল নিয়ে গেছেন। বাকি ৩০ হাজার টাকা এখনো দেননি। টাকা চাইলে তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব দেখাচ্ছেন। বিষয়টি নিলাম কমিটির সভাপতি ইউএনও স্যারকে জানানো হয়েছে।
কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুর ইসলাম বলেন, আমি নিলামের সময় উপস্থিত ছিলাম। যতদূর জানি, অধ্যক্ষ নাকি দুটি দেয়াল ভাঙতে দেননি। জামিল হোসেনের এই নিলামে প্রায় ৪০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
কোলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন বলেন, জামিল নিলামে ডাক দিয়ে ভবনটি নিয়েছেন, তা জানি। তবে পুরো টাকা পরিশোধ করেছেন কিনা, তা জানা নেই। বকেয়া রাখার বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, নিলামের সময় উপস্থিত ছিলাম। তবে নিলামের টাকা বকেয়া থাকার বিষয়টি জানা নেই।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি বলেন, আমি ওই নিলাম কমিটির একজন সদস্য ছিলাম। জামানত জমা নিয়ে নিলাম ডাকা হয়েছিল। পরে তিনি নিলামের টাকা পরিশোধ করেছেন, নাকি বকেয়া রেখেছেন, সে বিষয়ে আমাকে কেউ লিখিত বা মৌখিকভাবে জানায়নি।

-6ad61e5de676a.jpg)