Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙন

এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ পরিবারের বসতভিটা, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা

Advertisement

Icon

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৩ পিএম

এক সপ্তাহে নদীগর্ভে ১৭ পরিবারের বসতভিটা, কাঁচা ধান কাটছেন কৃষকরা

ভাঙনের মুখে জমির কাঁচা-পাকা ধান কাটতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা।

Advertisement

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ১৭টি পরিবারের বসতভিটা। একই সঙ্গে তলিয়ে গেছে বিঘার পর বিঘা আমন ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির ক্ষেত। ভাঙনের মুখে জমির কাঁচা-পাকা ধান কাটতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন কৃষকেরা। ঝুঁকি নিয়ে ধান কাটার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক বছরেই এই এলাকায় প্রায় সাড়ে ৫০০ পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়ে গৃহহীন হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ছয়-সাত মাস আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেললেও সেগুলো নদীগর্ভে চলে গেছে। সঠিক তদারকি ও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা না থাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

চর শৌলমারী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, গত এক সপ্তাহে তার ওয়ার্ডের সুখেরবাতি এলাকায় সাতটি এবং পাশের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সুখেরবাতি এলাকার দেলোয়ার, নজরুল ইসলাম, রুপচান, আয়শা খাতুন, ছোবহান ও লালু শেখ রয়েছেন। 

খেদাইমারী এলাকায় কপিল উদ্দিন, আফছার আলী, হাতেম, কদম আলী, আব্দুল খালেক, মহর উদ্দিন, সিরাজুল, জমসের আলী ও আক্কাস আলীর বাড়িও ভাঙনের শিকার হয়েছে। এ ছাড়া চরে নতুন করে বাড়ি করা আরও দুই ব্যক্তির বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে।

বসতভিটার পাশাপাশি কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হচ্ছেন কৃষকেরা। ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, সুখেরবাতি এলাকার ইউনুছ মোল্লার দেড় বিঘা আমন ধানের জমির পুরোটাই নদীতে চলে গেছে। ছবুর প্রামাণিকের চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা এবং জমসের আলীর বসতভিটাসহ তিন বিঘা ধানি জমি বিলীন হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত জমসের আলী বলেন, আমাগো বাড়িভিটাসহ তিন বিঘা জমি নদীতে গেছে। অহন আমি কী করুম! ধারদেনা করি মানুষের জমিতে ঘর উঠাইছি।

চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান বলেন, সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর এলাকায় ভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ব্লকের কাজ না হওয়ায় জিও ব্যাগ দিয়ে ভাঙন ঠেকানো যাচ্ছে না। আগে ভাঙনকবলিত পরিবারগুলো সরকারি আর্থিক সহায়তা পেলেও এখন তা বন্ধ রয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর নতুন করে ঘর তোলা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জরুরি কাজের জন্য বর্তমানে কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। তবে স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

অভাবে পূজার আনন্দ ম্লান ২০০ রবিদাস পরিবারের

অভাবে পূজার আনন্দ ম্লান ২০০ রবিদাস পরিবারের

পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবক আটক

পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, যুবক আটক

ট্রাক্টরের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত

ট্রাক্টরের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত

কার্তিকের শুরুতেই ভোরে ঘন কুয়াশার চাদর, প্রকৃতিই বলে দিচ্ছে শীতের আসছে

কার্তিকের শুরুতেই ভোরে ঘন কুয়াশার চাদর, প্রকৃতিই বলে দিচ্ছে শীতের আসছে

রৌমারীর আলোচিত জোড়া খুন: ২০ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন

রৌমারীর আলোচিত জোড়া খুন: ২০ বছর পর একজনের যাবজ্জীবন

বিশ বছর পর জোড়া খুন মামলার রায়, একজনের যাবজ্জীবন

বিশ বছর পর জোড়া খুন মামলার রায়, একজনের যাবজ্জীবন

আরও পড়ুন

ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটা, ৪ নারী আটক

ফরিদগঞ্জে জালটাকা দিয়ে কেনাকাটা, ৪ নারী আটক

চসিকের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির মামলা, তিনজন কারাগারে

চসিকের উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির মামলা, তিনজন কারাগারে

পশু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীর হাতে প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

পশু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য সহকারীর হাতে প্রসব, নবজাতকের মৃত্যু

বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব: ডেপুটি স্পিকার

বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব: ডেপুটি স্পিকার

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম