Logo
Logo
×

Advertisement

জাতীয়

‘সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে’, আশা মায়ের

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩২ পিএম

‘সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে’, আশা মায়ের

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া সুইটির ছবি হাতে তার বাবা ফজল মিয়া ও মা জহুরা বেগম। ছবি: যুগান্তর

Advertisement

‘সুইটির বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় বছর আগে। প্রায় দুই সপ্তাহ যাবত আমার মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। ১৫ দিন আগে ফোন করে জানিয়েছিল, সে দুই মাস পর বাড়ি ফিরবে। আমার মেয়ে সুইটির কী হয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পরিস্কার করে কিছু জানি না। তবে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চাই আমার মেয়ের কী হয়েছে। আমি আমার মেয়েকে ফেরত চাই। জীবিত হোক, মৃত হোক আমি আমার মেয়েকে চাই।’

এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলেন সম্প্রতি সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় সুইটির মা জহুরা বেগম।

সৌদির আরবে দুই প্রবাসী মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের পর থেকে বাংলাদেশে এ বিষয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বিভিন্ন জন বিভিন্নভাবে মতামত ও প্রতিবাদ করছেন।

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪ বছর আগে সৌদি আরব যান টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের মহেরা ইউনিয়নের নগর ছাওয়ালী গ্রামের সুইটি আক্তার। প্রথম ৫ মাস বাড়িতে টাকাও পাঠান তিনি। পরে ফোন করে বাড়িতে জানান তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে ১৫ দিন আগেও ফোন করেছিলেন। জানিয়েছিলেন জেল থেকে মুক্তি পাবেন কয়েক মাসের মধ্যেই।

মঙ্গলবার সকালে সুইটির বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে কয়েকজন প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। তারা জানতে পেরেছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সুইটিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে এবং সম্প্রতি তা কার্যকরও করেছে। সুইটির বাবা বিছানায় শুয়ে রয়েছে। মা পরিবারের কাজ করছেন। সুইটির বাবা দিন মজুরের কাজ করেন। ফজল মিয়ার ৫ মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সুইটি। ৪ বছর আগে ধার-দেনা করে মেয়েকে সৌদি পাঠিয়েছিলেন।

ফজল মিয়া বলেন, ‘দালালের মাধ্যমে সৌদিতে চাকরির জন্য পাঠিয়েছিলাম মেয়েকে। এজন্য দেড় লাখ টাকা ধার করেছিলাম। প্রথম ৫ মাস সে বাড়িতে টাকাও পাঠিয়েছিল। পরে একদিন ফোন করে জেলে যাওয়ার খবর জানায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সুইটি জানিয়েছিল, মক্কায় কর্মরত অন্য নারীকর্মীদের সঙ্গে ঝগড়ার পর তাকে ফাঁসিয়ে জেলে দেওয়া হয়েছে। এরপর এক বছর সুইটির খোঁজ পাননি। ১৫ দিন আগে আবার একদিন মেয়ে জেল থেকে ফোন করে। কিন্তু কোর্টে তার বিচারের কথা বলেনি। শেষদিকে ফোনে জানিয়েছিল দুই মাস পর জেল থেকে মুক্তি পেতে পারে।’

তবে, দুদিন আগে তারা জানতে পারেন যে সৌদি সরকার সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে। যদিও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারটিকে কিছু জানানো হয়নি।

ফজল বলেন, ‘আমার মেয়ের ভাগ্যে কী ঘটেছে আমরা জানি না। সে বেঁচে আছে, না মারা গেছে তাও আমরা জানি না। আমরা শুধু মানুষের কাছে উড়ো খবর শুনেছি।’

স্থানীয় মহেরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিভাস সরকার নুপুর এবং মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সুইটির বিষয়ে সরকারের কোনো পর্যায় থেকে তাদের কিছু জানানো হয়নি।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ঘুস নেওয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার

ঘুস নেওয়ার অভিযোগে এএসআই প্রত্যাহার

ইশরাকের উদ্দেশ্য ভালো, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার

ইশরাকের উদ্দেশ্য ভালো, তবে অস্ত্র হাতে নেওয়া ঠিক হয়নি: স্পিকার

‘সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে’, আশা মায়ের

‘সুইটি এখনও জেলে আছে, ২ মাস পর বাড়ি ফিরবে’, আশা মায়ের

পিরোজপুরে ট্রলারডুবিতে শিশুর মৃত্যু, ৮ ঘণ্টায়ও খোঁজ মেলেনি মায়ের

পিরোজপুরে ট্রলারডুবিতে শিশুর মৃত্যু, ৮ ঘণ্টায়ও খোঁজ মেলেনি মায়ের

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম