মুসলিম পরিচয়ে প্রেম-বিয়ের আসরে জানা গেল হিন্দু, অতঃপর...
Advertisement
উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কুড়িগ্রামের উলিপুরে সমাজের অপবাদ সইতে না পেরে গোয়ালঘরে ফাঁস দিয়ে নাজমা খাতুন (৪৪) নামে এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম নাওড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই নারী ফেসবুকে মুসলিম পরিচয় দেওয়া এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরে প্রেমিকার বাড়িতে ওই যুবক সাক্ষাৎ করতে এলে তাকে আটক করা হয়। এ সময় বিয়ের আসরে বসে ওই যুবক হিন্দু বলে শনাক্ত হওয়ায় বিয়ে আটকে দেন এলাকাবাসী। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দেন-দরবারে লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা হয় এবং এলাকাবাসীর অপবাদ সইতে না পেরে ওই নারী আত্মহত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসী ও মৃত নারীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৬ মাস ধরে উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের পশ্চিম নাওড়া এলাকার আব্দুল খালেকের স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে নাজমা খাতুনের সঙ্গে ফেসবুকে সাইদুর রহমান পলাশের প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। এ সময় পলাশ নিজেকে রেল পুলিশের সদস্য দাবি করেন এবং বিভিন্ন অজুহাত দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে নাজমার কাছ থেকে স্বর্ণসহ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পলাশ ওই নারীর সঙ্গে দেখা করার জন্য পশ্চিম নাওড়া এলাকায় যান। এ সময় অপরিচিত যুবকের উপস্থিতি সন্দেহজনক হলে এলাকাবাসী উভয়কে আটক করেন। এরপর রাতেই উভয়ের সম্মতিতে এলাকাবাসী বিয়ের আয়োজন করেন। বিয়ের রেজিস্ট্রির জন্য যুবকের জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে ঘটে বিপত্তি। এ সময় প্রতারক পলাশের সঠিক পরিচয় বেরিয়ে আসে।
ওই যুবক পার্শ্ববর্তী পান্ডুল ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি এলাকার অমল চন্দ্রের ছেলে দুলাল চন্দ্র (৫৩) বলে সবাই জানতে পারেন। পরবর্তীতে বিবাহ আয়োজন বন্ধ হয়ে যায় এবং ছেলেকে আটক করে রাখা হয়। এ ঘটনা প্রকাশ পেলে ধামশ্রেণি ও পান্ডুল ইউনিয়নের প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করতে বসেন।
সরেজমিন রোববার ঘটনাস্থলে গেলে স্থানীয় নাজমুল হক, মাহমুদুল হাসান সুজন ও গ্রামপুলিশ সৈয়দ আলীসহ অনেকে বলেন, পলাশ ওরফে দুলাল চন্দ্র ও নাজমা খাতুনকে আটক করা ব্যক্তিদের না জানিয়ে ওই প্রভাবশালী মহল যুবককে ছেড়ে দেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে হিন্দু যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ও বিয়ে না দিয়ে প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করে যুবককে ছেড়ে দেওয়ায় সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হয়ে এবং অপবাদ সইতে না পেরে রোববার দুপুরে নাজমা খাতুন নিজ বাড়ির গোয়ালঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে সবার অজান্তে আত্মহত্যা করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
ধামশ্রেণি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সহিদুল ইসলাম বলেন, সেখানে পান্ডুল বিএনপির নেতা জিয়াউল হক বাদলসহ আমরা অনেকেই উপস্থিত ছিলাম। বিষয়টি স্পর্শকাতর হওয়ায় শনিবার রাতে উভয়পক্ষের স্বজনদের নিয়ে মীমাংসা করা হয়। সেখানে ওই নারীর ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রতারক যুবকের ১ লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং সবার উপস্থিতিতে মেয়ের স্বজনদের টাকা বুঝে দেওয়া হয়।
রোববার ওই নারীর আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন তা আমার জানা নেই।
পান্ডুল ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউল হক বাদলের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শওকত আলী সরকার জানান, লাশ উদ্ধার করে বিকালে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ কুড়িগ্রাম মর্গে পাঠানো হবে। এছাড়াও মৃত নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে শুনেছি। অভিযোগ হাতে পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
