Logo
Logo
×

Advertisement

সারাদেশ

সন্তানদের কাছে বৃদ্ধ পিতা এখন বোঝা, ঠাঁই হলো গাছতলায়

Advertisement

Icon

কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০৮:৫৪ পিএম

সন্তানদের কাছে বৃদ্ধ পিতা এখন বোঝা, ঠাঁই হলো গাছতলায়

রাস্তার পাশে গাছতলায় বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা: ছবি যুগান্তর

Advertisement

জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা (৯৫)। জীবনের শেষপর্যায়ে এসে সেই সন্তানদের কাছে তিনি এখন বোঝা হয়ে পড়েছেন। ছয় সন্তানের মধ্যে কারো কাছেই তার ঠাঁই হয়নি। ছেলেমেয়েরা সবাই মিলে জমিজমা লিখে নিয়ে তাকে রেখে দিয়েছে বাড়ির পাশে একটি গাছের নিচে। সেখানেই এখন দিন কাটছে ওই বৃদ্ধের।

বৃদ্ধ শামসুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।

জানা গেছে, হাজী শামসুল হক মোল্লার দুটি ছেলে ও চারটি মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় একজন ফেরিওয়ালা। ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার।

অপরদিকে চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

বৃদ্ধ হাজী শামসুল হকের ছোট সন্তান কাজুলী বেগম বাদে আর পাঁচ সন্তান তাদের সংসার-সন্তান নিয়ে ব্যস্ত।

গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ করতে যান। তখন বাকি জমিজমা সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন; কিন্তু বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের কোনো সন্তানই খোঁজখবর রাখছেন না।

শামসুল হক মোল্লা গত কয়েক দিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন; কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে এলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে রেখে যান।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে শামসুল হক মোল্লার সন্তানদের নিয়ে একটি বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ। তার পরেও আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে। যার কারণে আমার পক্ষে আমার বাবাকে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

শামসুল হকের মেজো মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছেন। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশুনা করব? 

এ বিষয়ে জানার জন্য শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাদের পাওয়া যায়নি। তাদের স্ত্রীরাও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিণী বলেন, শামসুল হক মোল্লার জমিজমা লিখে নিয়ে এখন তার সন্তানরা আশ্রয় দিচ্ছেন না। তিনি যদি সন্তানদের জমি লিখে না দিতেন তাহলে হয়তো এ অবস্থা হতো না। সন্তানরা যেটি করছেন সেটি কোনোভাবেই কোনো পিতার জন্য কাম্য নয়।

বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, আমি এখন কোথায় যাব, কী করব? কিছুই বুঝতে পারছি না। সারাজীবন কষ্ট করে যাদের বড় করলাম তাদের কাছে আমি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। আমি এখন ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। শামসুল হক সাহেবের সন্তানরা যদি তার পিতার দেখাশোনা না করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে 'পিতামাতার ভরণ-পোষণ' আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

Advertisement

আরও পড়ুন

ঢাকাস্থ আখাউড়া উপজেলা সমিতির সভাপতি শাহজাদা, সাধারণ সম্পাদক রমজান

ঢাকাস্থ আখাউড়া উপজেলা সমিতির সভাপতি শাহজাদা, সাধারণ সম্পাদক রমজান

সেই রুমিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ

সেই রুমিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ

বন্ধুর সহায়তায় স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

বন্ধুর সহায়তায় স্ত্রীর অন্তরঙ্গ ভিডিও ছড়ানোর অভিযোগে স্বামী গ্রেফতার

গোবিন্দগঞ্জে মিথ্যা মামলা করায় বাদীর কারাদণ্ড

গোবিন্দগঞ্জে মিথ্যা মামলা করায় বাদীর কারাদণ্ড

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম