বাঘায় ঐতিহাসিক ঈদ মেলায় লাখো মানুষের ঢল
jugantor
বাঘায় ঐতিহাসিক ঈদ মেলায় লাখো মানুষের ঢল

  আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি  

০৬ জুন ২০১৯, ১০:৪৯:১০  |  অনলাইন সংস্করণ

বাঘায় ঐতিহাসিক ঈদ মেলায় লাখো মানুষের ঢল

রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক ঈদ মেলা। ১৫ দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে ঈদুল ফিতরের দিন থেকে।

শাহদৌলা কলেজ মাঠ, মাজার চত্বর, উৎসব পার্কে মেলা দেখা ও আনন্দ উপাভোগ করার জন্য দেশের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ আসছে।

ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য বুধবার মেলায় লাখো মানুষের ঢল নামে। ঈদের নামাজ শেষে লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মেলায় আসতে শুরু করে।

মেলায় হাজার হাজার ব্যবসায়ীরা পসরা নিয়ে বসেছে। মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে সার্কাস, যাত্রা, নাগর দোলা, মোটরসাইকেল, কারগাড়ি ঘোরান খেলা।

মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান উৎসব হলেও সব সম্প্রদায়ের মানুষ আসে এই মেলায়। মেলাই পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনে মিষ্টি, বাচ্চাদের খেলনা, মনোহারি সামগ্রী, লোহাজাত দ্রব্য, কাঠের আলনা, চেয়ার, টেবিল, খাট, ড্রেসিং টেবিল, পালঙ্ক, শোকেচ, মাটির হাড়ি পাতিল, প্রসাধনী সামগ্রী, মাংস, বেকারি দ্রব্যাদি, শামুকের মালা, কাঠের সামগ্রী, বেলুন, বাঁশি। এ ছাড়া রয়েছে ছবির দোকান, খাবার হোটেল, সদর ঘাটের পান, চা স্টল প্রভৃতি।

ঐতিহাসিক উৎসব পার্কে চলছে সার্কাস, যাত্রা, নাগর দোলা, মোটরসাইকেল, কারগাড়ি ঘোরান খেলা।

মেলার আয়োজকরা জানান, মহৎ এক পুরুষ আব্বাসী। তার বংশের হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরপে শাহদৌলা (র.) ও ছেলে হযরত আ. হামিদ দানিশ মন্দের (র.)ওরশকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন থেকে বাঘা ওয়াকফ এস্টেটের বিশাল এলাকাজুড়ে শুরু হয় মেলা। ঈদের তৃতীয় দিন ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে জোহর নামাজের পর তবারক বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ কোনে বাঘায় হযরত শাহদৌলা (র.) ও ছেলে হযরত আ. হামিদ দানিশ মন্দ (র.) সাধনার পীঠস্থান। বাঘা শাহী মসজিদের ভিতরে প্রবেশ পথের উত্তর গেটের বামদিকে হযরত শাহদৌলা (র.) রওজা শরীফ অবস্থিত।

প্রায় ৫০০ বছর আগে বাগদাদ থেকে ৫ জন সঙ্গীসহ ইসলাম প্রচারের জন্য পূর্ব-দক্ষিণ কোনে পদ্মা নদীর কাছে বাঘা নামক স্থানে বসবাস শুরু করেন। তারপর নিজের চরিত্র, মাধুর্য্য, ব্যবহার ও আত্মিক শক্তির বলে এই এলাকার জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচারে আকৃষ্ট করেন তিনি।

এই এলাকার মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার আত্মিক ক্ষমতার প্রভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার স্মরণে প্রায় ৫০০ বছর যাবত চলছে ঈদ মেলা।

মেলা কমিটির সহসভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজাবলেন, সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর না ঘটে, সে জন্য পুলিশ বাহিনী সতর্ক রয়েছেন।

বাঘায় ঐতিহাসিক ঈদ মেলায় লাখো মানুষের ঢল

 আমানুল হক আমান, বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি 
০৬ জুন ২০১৯, ১০:৪৯ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
বাঘায় ঐতিহাসিক ঈদ মেলায় লাখো মানুষের ঢল
বাঘায় ঐতিহাসিক ঈদ মেলায় লাখো মানুষের ঢল

রাজশাহীর বাঘায় শুরু হয়েছে ঐতিহাসিক ঈদ মেলা। ১৫ দিনব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে ঈদুল ফিতরের দিন থেকে।

শাহদৌলা কলেজ মাঠ, মাজার চত্বর, উৎসব পার্কে মেলা দেখা ও আনন্দ উপাভোগ করার জন্য দেশের দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার নারী পুরুষ আসছে।

ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য বুধবার মেলায় লাখো মানুষের ঢল নামে। ঈদের নামাজ শেষে লাখ লাখ মানুষ বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মেলায় আসতে শুরু করে।

মেলায় হাজার হাজার ব্যবসায়ীরা পসরা নিয়ে বসেছে। মেলার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে সার্কাস, যাত্রা, নাগর দোলা, মোটরসাইকেল, কারগাড়ি ঘোরান খেলা।

মুসলমানদের ধর্মীয় প্রধান উৎসব হলেও সব সম্প্রদায়ের মানুষ আসে এই মেলায়। মেলাই পাওয়া যাচ্ছে সব ধরনে মিষ্টি, বাচ্চাদের খেলনা, মনোহারি সামগ্রী, লোহাজাত দ্রব্য, কাঠের আলনা, চেয়ার, টেবিল, খাট, ড্রেসিং টেবিল, পালঙ্ক, শোকেচ, মাটির হাড়ি পাতিল, প্রসাধনী সামগ্রী, মাংস, বেকারি দ্রব্যাদি, শামুকের মালা, কাঠের সামগ্রী, বেলুন, বাঁশি। এ ছাড়া রয়েছে ছবির দোকান, খাবার হোটেল, সদর ঘাটের পান, চা স্টল প্রভৃতি।

ঐতিহাসিক উৎসব পার্কে চলছে সার্কাস, যাত্রা, নাগর দোলা, মোটরসাইকেল, কারগাড়ি ঘোরান খেলা।

মেলার আয়োজকরা জানান, মহৎ এক পুরুষ আব্বাসী। তার বংশের হযরত শাহ মোয়াজ্জেম ওরপে শাহদৌলা (র.) ও ছেলে হযরত আ. হামিদ দানিশ মন্দের (র.)ওরশকে কেন্দ্র করে ঈদের দিন থেকে বাঘা ওয়াকফ এস্টেটের বিশাল এলাকাজুড়ে শুরু হয় মেলা। ঈদের তৃতীয় দিন ওরশ মোবারক অনুষ্ঠিত হয়। এই দিনে জোহর নামাজের পর তবারক বিতরণ করা হয়।

রাজশাহী বিভাগীয় শহর থেকে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার পূর্ব-দক্ষিণ কোনে বাঘায় হযরত শাহদৌলা (র.) ও ছেলে হযরত আ. হামিদ দানিশ মন্দ (র.) সাধনার পীঠস্থান। বাঘা শাহী মসজিদের ভিতরে প্রবেশ পথের উত্তর গেটের বামদিকে হযরত শাহদৌলা (র.) রওজা শরীফ অবস্থিত।

প্রায় ৫০০ বছর আগে বাগদাদ থেকে ৫ জন সঙ্গীসহ ইসলাম প্রচারের জন্য পূর্ব-দক্ষিণ কোনে পদ্মা নদীর কাছে বাঘা নামক স্থানে বসবাস শুরু করেন। তারপর নিজের চরিত্র, মাধুর্য্য, ব্যবহার ও আত্মিক শক্তির বলে এই এলাকার জনগণের মধ্যে ইসলাম প্রচারে আকৃষ্ট করেন তিনি।

এই এলাকার মানুষ তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার আত্মিক ক্ষমতার প্রভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। তার স্মরণে প্রায় ৫০০ বছর যাবত চলছে ঈদ মেলা।

মেলা কমিটির সহসভাপতি ও বাঘা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহিন রেজা বলেন, সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। যাতে কোনো অপ্রীতিকর না ঘটে, সে জন্য পুলিশ বাহিনী সতর্ক রয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন