গণশুনানিতে শেরপুর ডিসি কার্যালয়ে মানুষের ঢল
jugantor
গণশুনানিতে শেরপুর ডিসি কার্যালয়ে মানুষের ঢল

  শেরপুর প্রতিনিধি  

০৮ নভেম্বর ২০১৯, ২২:৪৭:৪৭  |  অনলাইন সংস্করণ

গণশুনানিতে শেরপুর ডিসি কার্যালয়ে মানুষের ঢল

সরকারি নির্দেশনা অনুসারে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র ও অসহায় সাধারণ মানুষের নানাবিধ সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের মতো শেরপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তের দরিদ্র অসহায় মানুষ তাদের অভাব অভিযোগ ও সমস্যার কথা কম্পিউটারে কম্পোজ করা আবেদনপত্রে লিখে তাতে নিজেদের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযোজন করে গণশুনানির দিনে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এসে ভিড় করেন।

গণশুনানিতে পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যাই বেশি। সপ্তাহের প্রতি বুধবার অসংখ্য নারী ও পুরুষ বিধবা ও বয়স্ক ভাতা, চিকিৎসার জন্য অনুদান, আর্থিক সাহায্য, ঘরের জন্য আবেদন, জমি সংক্রান্ত সমস্যা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বই কেনার জন্য সাহায্য প্রার্থনাসহ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে ছুটে আসছেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের সাদরে গ্রহণ ও তাদের আবেদনপত্রগুলো সদয় বিবেচনার জন্য নিবন্ধন করছেন।

৬ নভেম্বর বুধবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ নানা সমস্যা নিয়ে এবং নানা সহযোগিতার আশায় ভীর করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নামের নিবন্ধন করে এক এক করে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব।

সাক্ষাৎকারে জেলা প্রশাসক সবার সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিক কিছু সমস্যার সমাধান করেন। কিছু সমস্যা সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরে প্রেরণ করেন।

এসময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতি বুধবার দুপুরের পর থেকে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

শেরপুর পৌরসভার তাতালপুর মহল্লা আম্বি খাতুন ও চাপাতলী এলাকার ভানু এসেছিলেন বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য। দক্ষিণ নওহাটা এলাকার হনুফা খাতুন, মোবারকপুরের আছমা খাতুন এসেছিলেন বিধবা ভাতার কার্ড পাওয়ার আবেদন নিয়ে।

পূর্বশেরী এলাকার ছাহেরা বেগম এসেছিলেন আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে। শেখহাটি গ্রামের সাদেক আলী এসেছিলেন বয়স্ক ভাতার কার্ডের আবেদন নিয়ে। শেরপুর সদর উপজেলার চরশ্রীপুর গ্রামের ছামিদুল হক এসেছিলেন জমি আছে ঘর নাই হিসেবে ঘর বরাদ্দের আবেদন নিয়ে।

পাকুরিয়া চকপাড়া গ্রামের মমর উদ্দিন এসেছিলেন বয়স্ক কার্ডের আবেদন নিয়ে। এদের মতো জেলার বিভিন্ন স্থানের নারী ও পুরুষ নানা ধরনের দাবি ও সমস্যার সমাধানের জন্য আশা নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

গণশুনানিতে আসা এসব আবেদনকারীকে সামাল দিতে এবং তাদের নাম নিবন্ধন করতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হয়। এ সময় সমবেত নারী ও পুরুষকে সুশৃংখল রাখার পাশাপাশি কোন স্থানে কোন ধরনের আবেদন জমা দিতে হবে তা হ্যান্ডমাইকে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষ তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যাতে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আমরা তাদের সমস্যাটা সশরীরে শুনে তাদের সমস্যার সমাধানটা যাতে দিতে পারি সে জন্যে এ গণশুনানি। সব সমস্যার সমাধানধান আমরা দিতে পারি ব্যাপারটা তা নয়। সংশ্লিষ্ট যে বিভাগগুলো আছে তাদের কাছে রেফার করি। যেগুলো সঙ্গে সঙ্গে সমাধান দিতে পারি সেগুলো দেই।

তিনি বলেন, আমাদের একটা রেজিস্ট্রার আছে। প্রতি গণশুনানিতে কতজন মানুষ আসেন বা কতজনকে আমরা সেবা দিতে পারছি এটা আমাদের রেজিস্ট্রারভূক্ত হয়। আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

গণশুনানিতে শেরপুর ডিসি কার্যালয়ে মানুষের ঢল

 শেরপুর প্রতিনিধি 
০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
গণশুনানিতে শেরপুর ডিসি কার্যালয়ে মানুষের ঢল
গণশুনানিতে শেরপুর ডিসি কার্যালয়ে মানুষের ঢল

সরকারি নির্দেশনা অনুসারে তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র ও অসহায় সাধারণ মানুষের নানাবিধ সমস্যা শুনে তা সমাধানের জন্য সারা দেশের জেলা প্রশাসকদের মতো শেরপুরের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে নিয়মিত সাপ্তাহিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জেলার বিভিন্ন প্রান্তের দরিদ্র অসহায় মানুষ তাদের অভাব অভিযোগ ও সমস্যার কথা কম্পিউটারে কম্পোজ করা আবেদনপত্রে লিখে তাতে নিজেদের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সংযোজন করে গণশুনানির দিনে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এসে ভিড় করেন।

গণশুনানিতে পুরুষের চেয়ে নারীদের সংখ্যাই বেশি। সপ্তাহের প্রতি বুধবার অসংখ্য নারী ও পুরুষ বিধবা ও বয়স্ক ভাতা, চিকিৎসার জন্য অনুদান, আর্থিক সাহায্য, ঘরের জন্য আবেদন, জমি সংক্রান্ত সমস্যা, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও বই কেনার জন্য সাহায্য প্রার্থনাসহ নানাবিধ সমস্যা নিয়ে ছুটে আসছেন।

জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা তাদের সাদরে গ্রহণ ও তাদের আবেদনপত্রগুলো সদয় বিবেচনার জন্য নিবন্ধন করছেন।
 
৬ নভেম্বর বুধবার দুপুর থেকে বিকাল পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক নারী-পুরুষ নানা সমস্যা নিয়ে এবং নানা সহযোগিতার আশায় ভীর করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে। এ সময় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে নামের নিবন্ধন করে এক এক করে সবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব।

সাক্ষাৎকারে জেলা প্রশাসক সবার সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাৎক্ষণিক কিছু সমস্যার সমাধান করেন। কিছু সমস্যা সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সরকারি দফতরে প্রেরণ করেন।

এসময় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত  ছিলেন।

প্রতি বুধবার দুপুরের পর থেকে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

শেরপুর পৌরসভার তাতালপুর মহল্লা আম্বি খাতুন ও চাপাতলী এলাকার ভানু এসেছিলেন বয়স্ক ভাতার কার্ডের জন্য। দক্ষিণ নওহাটা এলাকার হনুফা খাতুন, মোবারকপুরের আছমা খাতুন এসেছিলেন বিধবা ভাতার কার্ড পাওয়ার আবেদন নিয়ে।

পূর্বশেরী এলাকার ছাহেরা বেগম এসেছিলেন আর্থিক সাহায্যের আবেদন নিয়ে। শেখহাটি গ্রামের সাদেক আলী এসেছিলেন বয়স্ক ভাতার কার্ডের আবেদন নিয়ে। শেরপুর সদর উপজেলার চরশ্রীপুর গ্রামের ছামিদুল হক এসেছিলেন জমি আছে ঘর নাই হিসেবে ঘর বরাদ্দের আবেদন নিয়ে।

পাকুরিয়া চকপাড়া গ্রামের মমর উদ্দিন এসেছিলেন বয়স্ক কার্ডের আবেদন নিয়ে। এদের মতো জেলার বিভিন্ন স্থানের নারী ও পুরুষ নানা ধরনের দাবি ও সমস্যার সমাধানের জন্য আশা নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে বুধবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান করেন।

গণশুনানিতে আসা এসব আবেদনকারীকে সামাল দিতে এবং তাদের নাম নিবন্ধন করতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হয়। এ সময় সমবেত নারী ও পুরুষকে সুশৃংখল রাখার পাশাপাশি কোন স্থানে কোন ধরনের আবেদন জমা দিতে হবে তা হ্যান্ডমাইকে বিভিন্ন পরামর্শ ও দিক নির্দেশনা দেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।

জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষ তাদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে যাতে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আমরা তাদের সমস্যাটা সশরীরে শুনে তাদের সমস্যার সমাধানটা যাতে দিতে পারি সে জন্যে এ গণশুনানি। সব সমস্যার সমাধানধান আমরা দিতে পারি ব্যাপারটা তা নয়। সংশ্লিষ্ট যে বিভাগগুলো আছে তাদের কাছে রেফার করি। যেগুলো সঙ্গে সঙ্গে সমাধান দিতে পারি সেগুলো দেই।

তিনি বলেন, আমাদের একটা রেজিস্ট্রার আছে। প্রতি গণশুনানিতে কতজন মানুষ আসেন বা কতজনকে আমরা সেবা দিতে পারছি এটা আমাদের রেজিস্ট্রারভূক্ত হয়। আমাদের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে আমরা সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

 
আরও খবর
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন