কাঁদছে সেই রেল কর্মচারীর তিন শিশুসন্তান
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯:১৫ পিএম
রেলওয়ে কর্মচারী মাহবুবুর রহমানের দুই ছেলে আজিজুল, সামিউল
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে রেলওয়ে কর্মচারী মাহবুবুর রহমান খুনের ঘটনায় তিন শিশু সন্তানের জীবন এখন অন্ধকার। মায়ের পরকীয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ জীবন তছনছ হয়ে গেছে।
বাবাকে খুন করার পর মায়ের প্রেমিক আসিফ (১৯) এবং মা রোকসানা আক্তার (২৮) এখন কারাগারে বন্দি। হত্যার পরিকল্পনাকারী জন্মদাতা নিজের মা।
নিহত মাহবুবুরের তিন সন্তান। আজিজুল (১০), সামিউল (৭) ও মেয়ে সাদিয়া (৪)। খুনের ঘটনার পর নানী সাদিয়াকে তার বাড়িতে নিয়ে গেছে। দুই ছেলে বাসায় চাচা - চাচি ও দাদির কাছে থাকলেও সারাক্ষণ বসে কাঁদছে।
মায়ের অসম প্রেম কাহিনীর গল্প তারা এখনও বুঝার বয়স হয়নি। শুধু জানে ডাকাতরা তাদের বাবাকে বাসায় খুন করেছে।
আজিজুল চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র। সামিউল প্রথম শ্রেণিতে পড়ছে। বৃহস্পতিবার দুজনের বার্ষিক পরীক্ষা। কিন্তু সাতদিন যাবত বইয়ের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। তারপরও তার বড় চাচা সাংবাদিক হাবিবুর রহমান জানান, দুজনই পরীক্ষা দেবে।
নিজের বাসায় ২৭ নভেম্বর ভোররাতে খুন হয় মাহাবুবুর রহমান। তিনি বাংলাদেশ রেলওয়েতে ঢাকার কমলাপুরে এসএসফিটার (লকুশেড) পদে চাকরি করতেন। তার বাড়ি ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের এলাকায়।
গত রোববার সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল আলম চৌধুরীর কাছে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তার স্ত্রী রোকসানা আক্তার ও প্রেমিক আসিফ ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
জবানবন্দিতে তারা স্বীকার করে গত ছয়মাস আগে থেকে তারা দুজন প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সেই অসম প্রেমের কারণে মাহবুবুরকে রাতে পায়েসের সঙ্গে ঘুমের ট্যাবলেট মিশিয়ে অচেতন করার পর ছুরিকাঘাত করে প্রেমিক আসিফ খুন করে। একাজে সহযোগিতা করে তার স্ত্রী রোকসানা।
তিন সন্তান এখন নির্বাক দিশেহারা। বুধবার দুপুরে তাদের বাসায় গেলে দেখা যায় বাসার প্রধান গেইটটি তালাবদ্ধ। পাশের বাসাটি তার বড় ভাই হাবিবুর রহমানের। তিনি হত্যা মামলার বাদী ও ঢাকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার। দেখা হয় তার সঙ্গে।
তার বাসায় প্রবেশ করার পর দেখতে পাই মাহবুবুরের দুই ছেলে আজিজুল ও সামিউল সোফায় বসে নির্বাক তাকিয়ে আছে। জিজ্ঞাসা করতেই আজিজুল বলল, বাবাকে ডাকাতরা মেরে ফেলেছে। মাকে পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। ছোট বোনটিও কাছে নেই। তাই কিছুই ভাল লাগে না।
স্কুলে পরীক্ষা দিবে কিনা জিজ্ঞাসা করতেই আজিজুল বলল, বাবাকে মারার পর বই নিয়ে আর বসেনি। কীভাবে পরীক্ষা দিব।
চাচা হাবিবুর জানান, দুজনকে আজ পরীক্ষা দেয়াব স্কুলে। রেজাল্ট যা হয় তা হবে। আজ তাদেরকে পড়ার টেবিলে বসিয়েছি। চাচা ঢাকায় থাকলেও বুধবার সকালে মামলার খোঁজ-খবর নিতে ভৈরবে এসেছেন।
তিনি বলেন, পুলিশের কাছ থেকে জানতে পারি, রোকসানা আক্তার তার স্বর্ণের গহনা বিক্রি করে তার প্রেমিক আসিফকে এক লাখ টাকা দিয়েছিল বিদেশ যেতে। এ টাকা আসিফের মামার কাছে জমা আছে একথা পুলিশ বলেছে। টাকাগুলি আজ তার কাছ থেকে উদ্ধার করবে পুলিশ। দুই ছেলের পরীক্ষার ব্যবস্থা ও টাকাগুলি উদ্ধারের জন্য আমি ঢাকা থেকে ভৈরব এসেছি।
তার তিন সন্তান দেখাশুনাসহ তাদের লেখাপড়ার দায়িত্ব আমিসহ আমার ভাইদেরকেই নিতে হবে বলে তিনি জানান।
