সমাপনীতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খাতা মূল্যায়নে আলাদা ব্যবস্থা নেই!

  যশোর ব্যুরো ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৬ | অনলাইন সংস্করণ

প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে চাহিদা সম্পন্ন শিশু
প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিচ্ছে চাহিদা সম্পন্ন শিশু। ফাইল ছবি

এবার প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য বাড়তি ৩০ মিনিট সময় দেয়া হয়। কিন্তু সেই পরীক্ষার উত্তরপত্র (খাতা) মূল্যায়নে আলাদা ব্যবস্থা নেই।

সাধারণ শিশুদের উত্তরপত্রের সঙ্গেই মূল্যায়ন চলছে। এতে তাদের পিছিয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

যদিও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষায় (জেএসসি) বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উত্তরপত্র মূল্যায়নের ব্যবস্থা আছে।

শিক্ষক, অভিভাবকদের দাবি, জেএসসির মতো প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নেও তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হোক।

জানা গেছে, ২০১৯ সালে যশোর জেলায় প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় ৫০ হাজার ১৯২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন (প্রতিবন্ধী) পরীক্ষার্থী রয়েছে ৮৬ জন। পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আধাঘণ্টা বেশি দেয়া হয়।

কিন্তু ওই শিশুদের খাতা মূল্যায়নে আলাদা ব্যবস্থা করা হয়নি। জেএসসির মত প্রাথমিক সমাপনীতেও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের উত্তরপত্র আলাদাভাবে মূল্যায়নে দাবিতে জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়েছেন জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা।

জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কর্মকর্তা মুনা আফরিন বলেন, জেএসসি, এসএসসিসহ অন্যান্য পরীক্ষায় বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন পরীক্ষার্থীদের ২০ মিনিট সময় বেশি দেয়া হয়। এরপর তাদের খাতার উপরে ডি/এ লিখে হলুদ কাপড়ে মুড়িয়ে পাঠানো হয়। অন্যদিকে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থীদের ৩০মিনিট সময় বেশি দেয়া হয়। কিন্তু এসব শিশুদের খাতার ওপর চিহ্নিত করা হয় না তারা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন।

তিনি জানান, শিক্ষকরা বুঝতে পারেন না, খাতাটি একজন স্বাভাবিক নাকি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর। ফলে শিক্ষকরা এসব খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়ন করতে পারেন না। একজন স্বাভাবিক শিশুর খাতার সঙ্গে যদি একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুর খাতা সমানভাবে মূল্যায়ন করা হয় তাহলে পরীক্ষার ফলাফলে কোনোভাবেই সামঞ্জস্য থাকে না।

মুনা আফরিন বলেন, একজন বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু প্রায় ১৫-১৬ বছর বা তারও বেশি বয়সে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা দিয়ে থাকে। তাদের ভেতর কেউ পা অথবা মুখ দিয়ে লেখে। কেউ আবার দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। কেউ মানসিক প্রতিবন্ধী। এসব শিশুরা অনেক ধরণের প্রতিবন্ধকতা নিয়ে লেখাপড়া করে। তাদের মেধাকে কখনই একটি স্বাভাবিক শিশুর সঙ্গে তুলনা করা চলে না।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য বোর্ড পরীক্ষার মত প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায়ও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের খাতা আলাদাভাবে মূল্যায়নের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম বলেন, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য পরীক্ষায় ৩০ মিনিট সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। আলাদাভাবে খাতা মূল্যায়নের কোনো নির্দেশনা নেই। এজন্য সবার খাতা এক সঙ্গেই মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×