Logo
Logo
×
   

সারাদেশ

সিলেটের জি কে শামীমের প্রতারণা

টাকা না পেলে ২৫ ঠিকাদারের আত্মহত্যার হুমকি

Icon

সিলেট ব্যুরো

প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২০, ০৮:২৮ পিএম

টাকা না পেলে ২৫ ঠিকাদারের আত্মহত্যার হুমকি

সিলেটের জি কে শামীম নামে পরিচিত জামাল আহমদ চৌধুরী। ফাইল ছবি

সিলেটের জি কে শামীমখ্যাত জামাল আহমদ চৌধুরীর কাছে পাওনা ৭৫ কোটি টাকা অবিলম্বে পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন ২৫ ঠিকাদার।

তারা বলেছেন, ঠিকাদার জামাল আহমদের ৬২টি প্রকল্পের কাজ সাব-কন্ট্রাক্টে সম্পন্ন করার পর সব টাকা তিনি সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে তুলে নিলেও আমাদের পাওনা ৭৫ কোটি টাকা পরিশোধ করছেন না। অর্থকষ্টে থাকার কথা জানিয়ে তারা টাকা আদায়ে প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের সহায়তা কামনা করেছেন।

তারা বলেছেন, অর্থ না পেলে আমাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না। এ ব্যাপারে জামাল আহমদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা করার পর তাকে জেলে নেয়া হলেও অর্থ পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে জেলমুক্ত হয়ে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সোমবার সিলেট প্রেস ক্লাবে ঠিকাদার জামালের নানা অপরাধের চিত্র তুলে ধরে  ২৫ ঠিকাদার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আক্তার ট্রেডার্সসহ চারটি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময়ে ৬২টি প্রকল্পের কার্যাদেশ পায়। এসব কাজ আমাদের কাছে বিক্রি করে দেন। কাজ সম্পাদনের পর সব টাকা জামাল উত্তোলন করলেও আমাদের অর্থ ফেরত দেননি।

ঠিকাদাররা পাওনা টাকা আদায়ে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী, সেতুমন্ত্রীসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে জামাল চৌধুরীকে গত বছরের শেষের দিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বর্তমানে চারটি মামলায়ই তিনি জামিনে আছেন। ঠিকাদারদের সব পাওয়া টাকা পরিশোধের অঙ্গীকার করে জামিনে মুক্ত হয়েই তিনি উল্টো ঠিকাদারদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। মামলার তদন্তেও পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘জামালের অনিয়ম ও দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় বিভিন্ন দফতরের প্রকৌশলীরা মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন। আর এ কারণেই গত ৩ বছরে জামাল সিলেট বিভাগের ৪ জেলার ৬২ প্রকল্পের ঠিকাদারি কাজ পান। অথচ ২০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকার পরও প্রথম শ্রেণির ঠিকাদাররা কার্যাদেশও পাচ্ছেন না।’

জামালের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলনে ঠিকাদাররা বলেছেন, শুধু তাই নয়, জামাল চৌধুরী আয়কর ফাঁকি দিয়ে প্রতারণা করে শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ‘জামাল চৌধুরীর অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডারবাজির কাহিনী বলে শেষ করা যাবে না। তবে পুলিশ যেন জামালের বিরুদ্ধে করা মামলার মিথ্যা প্রতিবেদন দিতে না পারে সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের সহায়তা কামনা করেছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কবির হোসেন, আবুল কালাম আজাদ, দারুল ইসলাম দারা, তেরাব আলী, দিব্যদ্রুতি দাস দিলু পক্ষে স্ত্রী কনা রানী দাস, বাবলু মিয়া, নিজাম উদ্দিন, সিদ্দিক হোসেন, বদরুল ইসলাম, আবদুস সালাম, ফরিদ উদ্দিন, লুৎফুর রহমান, শৈলেন দাস।

প্রসঙ্গত, সিলেটের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আক্তার ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জামাল আহমদ চৌধুরীর অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, টেন্ডারবাজি ও স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে ২০১৯ সালের ১৯ ডিসেম্বর দৈনিক যুগান্তরে ‘সিলেটের জি কে শামীমের উত্থানের কাহিনী’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এরপর জামাল চৌধুরী কারাগারে থেকে ঠিকাদারদের পাওনা টাকা পরিশোধের আশ্বাস দিয়ে সমঝোতায় আদালত থেকে জামিন নিয়ে বের হন। কারাগার থেকে বেরিয়েই আগের রূপে ফিরে যান সিলেটের এই জি কে শামীম।

সিলেট আত্মহত্যা সাব-কন্ট্রাক্টে

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম