এবার করোনার প্রভাব পেঁয়াজে!

  শামীম খান, ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি ১৯ মার্চ ২০২০, ২৩:০১:০৩ | অনলাইন সংস্করণ

ঢাকার ধামরাইয়ে এ সরকারের শাসনামলে দেশের সবচেয়ে আলোচিত সেই পেঁয়াজ নিয়ে ফের অস্থির হয়ে উঠেছে ধামরাইয়ের অভ্যন্তরীণ বাজার। করোনাভাইরাসের কারণে পরিবহন বন্ধের গুজব ছড়িয়ে পড়লে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়।

পেঁয়াজ না পাওয়ার গুজব উঠলে মানুষজন বেশি বেশি পেঁয়াজ কেনার জন্য স্থানীয় বাজারে প্রচণ্ড ভিড় জমায়। এ ব্যবসায়ীরাও সুযোগটি লুফে নিতে মোটেও ভুল করেনি।

তারা মুহূর্তে পেঁয়াজের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়। সকালে স্থানীয় বাজারগুলোতে প্রতি কেজি ৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এ গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর বিকালে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয় ৬০ টাকা। অর্থাৎ ডাবলমূল্যে (দ্বিগুণ)।

এ খবরে পাইকারি বাজারে গুদাম ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মগোপন করে পাইকারি বিক্রেতারা। বেশি মুনাফার জন্য দিনভর পেছনের দরজা দিয়ে পেঁয়াজের বস্তা বের করে অধিক মূল্যে বিক্রি করে। সারা দিনেও সামনের দরজা খোলেনি তারা।

পুরো ধামরাইয়ে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্রেতারা একেকজন ৫-১০ কেজি করে পেঁয়াজ কেনা শুরু করে। ফলে স্থানীয় বাজারগুলো পেঁয়াজ শূন্য হয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় বাজারে কোনো পেঁয়াজ না পেয়ে ক্রেতারা হতাশ হয়ে পড়ে। ধামরাইয়ের কোনো স্থানেও পাওয়া যাচ্ছে না পেঁয়াজ।

স্থানীয় প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানোর কথা বললেও কার্যত তারা এব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করায় ধামরাইবাসী স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়েছেন।

উপজেলার সবচেয়ে বড়হাট হচ্ছে কালামপুর ও নয়ারহাট।

বৃহস্পতিবার ছিল সাপ্তাহিক হাট। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এ দুটি হাটে পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ধরণের পণ্য সামগ্রী আমদানি রফতানির জন্য আনা হয়। সকালেই তাদের পণ্য সামগ্রী বিক্রি শেষ হয়ে গেলে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এ সুযোগটি কাজে লাগায়।

মো. আতাউর রহমান ও সানোয়ার হোসেন নামের দুইজন ক্রেতা জানান, সকালের দিকেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পরিবহণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এ গুজব রটানোর পরই পেঁয়াজের বাজারে প্রভাব পড়ে যায়।

পাইকারি বিক্রেতা মো. মজিবর রহমান বলেন, ক্রেতারা যখন লাইন ধরে বেশি বেশি পেঁয়াজ কেনা শুরু করে তখন পেঁয়াজের মজুদ শেষ হয়ে যায়। এরপরই বেড়ে যায় পেঁয়াজের দাম। এতে বেসামাল হয়ে পড়ে পেঁয়াজের বাজার। কোনোভাবেই আর সামাল দেয়া সম্ভব হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সামিউল হক জানান, এ গুজবের কথা আমিও শুনেছি। বিভিন্ন জন ফোন করে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এ ব্যাপারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে বাজার ফের নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

আরও
 
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন

সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত